,

‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান ও ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালনে চূড়ান্ত প্রস্তুতি কাছাড়ে

জেলা জুড়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত প্রশাসনের; ৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে তিরঙ্গা বিক্রয়কেন্দ্র, সরকারি পরিকাঠামোর আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন কর্মসূচি বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : দেশব্যাপী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান এবং ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে শুক্রবার সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত করল কাছাড় জেলা প্রশাসন। জেলা জুড়ে কর্মসূচিগুলির সুষ্ঠু, সুসমন্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ বাস্তবায়ন…

জেলা জুড়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত প্রশাসনের; ৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে তিরঙ্গা বিক্রয়কেন্দ্র, সরকারি পরিকাঠামোর আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন কর্মসূচি

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : দেশব্যাপী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান এবং ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে শুক্রবার সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত করল কাছাড় জেলা প্রশাসন। জেলা জুড়ে কর্মসূচিগুলির সুষ্ঠু, সুসমন্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

জেলাশাসক রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএএস-এর সভাপতিত্বে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিলচর পৌর নিগম, শিক্ষা বিভাগ , অসম স্টেট রুরাল লাইভলিহুডস মিশন (ASRLM), ন্যাশনাল আরবান লাইভলিহুডস মিশন (NULM), জেলা পরিষদ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বাজার কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান, সমবেতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার অনুষ্ঠান এবং ১৪ আগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মসূচিগুলি যাতে শহর ও গ্রামীণ উভয় এলাকায় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার জন্য বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ৯ আগস্ট থেকে জেলার ১৫টি উন্নয়ন খণ্ড এবং প্রতিটি শহুরে ওয়ার্ডে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self Help Group) উদ্যোগে তিরঙ্গা পতাকা বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে গোলদিঘি মলসহ শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকাতেও বিশেষ বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে স্বাধীনতা দিবসের আগে নাগরিকেরা সহজেই জাতীয় পতাকা সংগ্রহ করতে পারেন।

এছাড়াও, অভিযান চলাকালীন জেলার সমস্ত সরকারি ভবন, সরকারি বিভাগ, অমৃত সরোবর এবং জল জীবন মিশনের বিভিন্ন পরিকাঠামো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিলচর শহর ও জেলার অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন মূর্তি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে যথাযথভাবে সজ্জিত করা হবে, যা নাগরিক সৌন্দর্যায়ন কর্মসূচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতাল, হোটেল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প সংস্থাগুলিকেও ভারতের পতাকা বিধি (Flag Code of India) কঠোরভাবে মেনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নিজেদের প্রতিষ্ঠান আলোকসজ্জায় সজ্জিত রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, তিরঙ্গা প্রদর্শন সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম অবশ্যই Flag Code of India-এর বিধান অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।

বৈঠকে জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগ ও অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচিগুলি সফলভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি জেলার সাধারণ মানুষের প্রতিও আবেদন জানান, যাতে তাঁরা Flag Code of India মেনে গর্বের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের এই সর্বভারতীয় অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা উন্নয়ন আয়ুক্ত, রাজীব রায়, এসিএস, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত মুখ্য কার্যবাহী আধিকারিক ডেভিড কুমার বরা, এসিএস, সম জেলা আয়ুক্ত (লক্ষীপুর ) ধ্রুবজ্যোতি পাঠক, এসিএস, কাছাড় জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ডরোথি সুচিয়াং, এসিএস, সহকারী আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত উপ সঞ্চালক তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ বরাক উপত্যকা, অরুণাভ চৌধুরী, এসিএস, জেলার সমস্ত চক্র আধিকারিকগন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *