,

ত্রিবর্ণরঞ্জিত বাইক র‍্যালিতে দেশাত্মবোধের আবহ শিলচরের রাজপথে, স্বাধীনতা দিবস ঘিরে কাছাড়ে একাধিক কর্মসূচি

জনসংযোগ। শিলচর : ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান এবং ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে রবিবার সকালে শিলচরের রাজপথে দেখা গেল দেশাত্মবোধের উচ্ছ্বাস। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, কাছাড় জেলা পুলিশ এবং জেলা পরিবহণ বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত হল তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি। সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহজনক অংশগ্রহণে র‍্যালিটি পরিণত হয় স্বাধীনতা দিবসের আবহে জনসম্পৃক্ত এক কর্মসূচিতে।…

জনসংযোগ। শিলচর : ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান এবং ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে রবিবার সকালে শিলচরের রাজপথে দেখা গেল দেশাত্মবোধের উচ্ছ্বাস। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, কাছাড় জেলা পুলিশ এবং জেলা পরিবহণ বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত হল তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি। সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহজনক অংশগ্রহণে র‍্যালিটি পরিণত হয় স্বাধীনতা দিবসের আবহে জনসম্পৃক্ত এক কর্মসূচিতে।

কাছাড়ের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয় থেকে সকালে র‍্যালিটির সূচনা হয়। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বাইক আরোহীরা রওনা দেন রাঙ্গিরখাড়ির দিকে। সেখান থেকে নেতাজি মূর্তির পাশ দিয়ে শিলচর শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে র‍্যালিটি ফের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে তিরঙ্গা হাতে বাইক আরোহীদের এই যাত্রা সকালবেলার শিলচরের রাজপথে এক বিশেষ দেশাত্মবোধের আবহ তৈরি করে।

উল্লেখ্য, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান ও গৌরবের অনুভূতিকে আরও সুদৃঢ় করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এদিকে, স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে কাছাড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে সরকারি বিভাগ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার থেকে জনপরিসর সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে যুক্ত করা যায়।

এরই অংশ হিসেবে আগামী ১০ থেকে ১৪ আগস্ট কাছাড় জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অঙ্কন, প্রবন্ধ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এনসিসি ও এন এস এস-এর সহযোগিতাও থাকবে। প্রতিযোগিতাগুলির চূড়ান্ত পর্ব আগামী ১৪ আগস্ট গান্ধী ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার বার্তাকেও যুক্ত করা হয়েছে। ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি বিভাগ, স্কুল, বাজার, জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান-সহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতিকেও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ১২ আগস্ট গান্ধী বাগ পার্কে অনুষ্ঠিত হবে তিরঙ্গা র‍্যালি এবং ‘বন্দে মাতরম’ সমবেত সঙ্গীত। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি NCC, NYK, NSS, ASRLM, NULM, বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন, জেলা ক্রীড়া বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।

স্বাধীনতা দিবসের আবহকে গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দিতে ১২ ও ১৩ আগস্ট ASRLM এবং বিভিন্ন উন্নয়ন খণ্ডের উদ্যোগে প্রভাত ফেরি ও ব্লক-স্তরের র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও তিরঙ্গা স্টল, তিরঙ্গা বিক্রয়, র‍্যালি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে গ্রামীণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ASRLM, ডেভেলপমেন্ট ব্লক, জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যবাহী আধিকারিক এবং জেলা সমাজকল্যাণ বিভাগ যুক্ত থাকবে।

আগামী ১৩ আগস্ট জেলার বিভিন্ন স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, গাঁও পঞ্চায়েত কার্যালয়, ব্লক ও সার্কেল অফিস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ সমবেত সঙ্গীত পরিবেশনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ , সমাজকল্যাণ বিভাগ , জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যবাহী আধিকারিক, চক্র আধিকারিকগন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি এই কর্মসূচির সমন্বয় করবে।

তিরঙ্গা বাইক র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন কাছাড়ের বরিষ্ঠ পুলিশ অধীক্ষক , সঞ্জীব কুমার শইকিয়া, এপিএস, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত, ডেবিড কুমার বরা,এসিএস, অতিরিক্ত পুলিশ অধীক্ষক (অপরাধ), কাছাড় শ্রী রজত কুমার পাল, আই পি এস, সহকারী আয়ুক্ত, ভাস্কর চৌধুরী,এসিএস, জেলা পরিবহণ আধিকারিক, কাছাড় এবং জেলা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক, কাছাড় স্নেহাংশু শেখর রায়সহ অন্যান্য আধিকারিক ও নাগরিকরা।

স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কাছাড়ে একাধিক কর্মসূচির এই বিস্তৃত আয়োজনের লক্ষ্য শুধু সরকারি স্তরে উদযাপন সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করা। স্কুলের পড়ুয়া থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, সরকারি কর্মী থেকে সাধারণ নাগরিক সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানকে আরও জনমুখী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল নাগরিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সক্রিয় ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সকলকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *