,

এনআরসি তালিকাভুক্তদের পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র ও অসম সরকারের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: সোমবার ১০ই অগাস্ট ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি.এস. নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-এনআরসি-তে নাম থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও অসম রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে। জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ, অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন-আমসু এবং অসম সংখ্যালঘু সংগ্রাম পরিষদ-সহ অন্যান্যদের দায়ের করা আবেদনের…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: সোমবার ১০ই অগাস্ট ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি.এস. নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-এনআরসি-তে নাম থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও অসম রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে। জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ, অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন-আমসু এবং অসম সংখ্যালঘু সংগ্রাম পরিষদ-সহ অন্যান্যদের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমিয়তের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এখনও জবাব দেয়নি। প্রাক্তন এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনীশ গোস্বামী এনআরসি তালিকার পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য তালিকায় একাধিক ভুল রয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, যারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন তাঁদের জন্য আপিল প্রক্রিয়াও এখনও শুরু হয়নি। এনআরসি তালিকায় ৩.১১ কোটির বেশি নাম থাকলেও তাঁরা জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি, অন্যদিকে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। “এই কাজে শুধু বিচার বিভাগের সময়ই নয়, ১৬০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ অর্থাৎ নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-র ধারা ১৪এ এবং নাগরিকত্ব আইন ২০০৩-এর ১৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া এবং ২০০৩-এর বিধির তফসিলের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপিল প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। ফলে গোটা প্রক্রিয়া কার্যত থমকে আছে,” অসম রাজ্য জমিয়ত উলেমার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এম.আর. শামশাদ-এর দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের যুক্তি, কোনো পদক্ষেপ না হওয়ায় যাদের নাম তালিকায় আছে তাঁরাও অনিশ্চয়তা ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের শিকার হচ্ছেন। “অসমের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে ভোটার তালিকা পর্যন্ত সর্বত্র এর প্রভাব আছে। অসম আন্দোলন ১৯৭৯-১৯৮৫, অসম চুক্তি, ১৯৮৫-তে ৬এ ধারা সংযোজন এবং ২০০৯-এ নির্দিষ্ট তফসিল সহ ২০০৩-এর বিধি প্রণয়নের পর এনআরসি প্রকাশ অসমে কয়েক দশকের নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশ সমস্যার সমাধানের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল,” আবেদনকারীরা আদালতে জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *