,

ঘরে ঘরে তিরঙ্গা, মর্যাদায় যেন আঁচ না লাগে 

‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় কাছাড় প্রশাসনের আবেদন গর্বের সঙ্গে পতাকা তুলুন, ‘ফ্ল্যাগ কোড’ মেনে সম্মানও রাখুন জনসংযোগ। শিলচর : বাড়ির ছাদে উঠবে তিরঙ্গা। স্বাধীনতার আবহে জাতীয় পতাকার রঙে রঙিন হবে কাছাড়। কিন্তু পতাকা উত্তোলনের উৎসবের মধ্যেও যেন তার মর্যাদায় কোনও ভাবেই আঁচ না লাগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান শুরুর আগে এমনই আবেদন জানাল কাছাড় জেলা প্রশাসন।…

‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় কাছাড় প্রশাসনের আবেদন গর্বের সঙ্গে পতাকা তুলুন, ‘ফ্ল্যাগ কোড’ মেনে সম্মানও রাখুন

জনসংযোগ। শিলচর : বাড়ির ছাদে উঠবে তিরঙ্গা। স্বাধীনতার আবহে জাতীয় পতাকার রঙে রঙিন হবে কাছাড়। কিন্তু পতাকা উত্তোলনের উৎসবের মধ্যেও যেন তার মর্যাদায় কোনও ভাবেই আঁচ না লাগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান শুরুর আগে এমনই আবেদন জানাল কাছাড় জেলা প্রশাসন।

আগামী ৯ থেকে ১৫ অগস্ট দেশ জুড়ে পালিত হবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান। সেই কর্মসূচিতে জেলার নাগরিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলিকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রদর্শন, ব্যবহার এবং অভিযানের শেষে তার যথাযথ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ‘ফ্ল্যাগ কোড অব ইন্ডিয়া, ২০০২’-এর বিধি মেনে চলার আবেদন করা হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য, তিরঙ্গা শুধুমাত্র তিন রঙের একটি পতাকা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ, জাতীয় গৌরব এবং ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষা। তাই বাড়িতে পতাকা তোলার আনন্দের পাশাপাশি তার প্রতি সম্মান দেখানোও নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। অনুভূমিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলে গেরুয়া অংশটি থাকবে উপরে। উল্লম্ব ভাবে প্রদর্শনের সময় গেরুয়া অংশটি থাকবে পতাকার ডান দিকে। পতাকা কোনও ভাবেই উল্টো করে রাখা যাবে না। মাটি, মেঝে বা জলে যাতে পতাকা না লাগে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় পতাকাকে পোশাক, পোশাকের অংশ, কস্টিউম বা ইউনিফর্ম হিসেবে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। মূর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, ভবন বা গাড়ি ঢাকার ক্ষেত্রেও জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা যাবে না, যদি না সংশ্লিষ্ট বিধিতে তার অনুমতি থাকে। পতাকা যাতে ছিঁড়ে না যায়, বিকৃত বা নোংরা না হয়, সে দিকেও নজর রাখার আবেদন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

পতাকার উপকরণ নিয়েও রয়েছে নতুন বিধান। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ফ্ল্যাগ কোড অব ইন্ডিয়া’-এর সংশোধিত বিধি অনুযায়ী পলিয়েস্টার এবং মেশিনে তৈরি পতাকা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পতাকা নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য মেনে তৈরি এবং যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত হওয়া জরুরি।

উৎসব শেষ, দায়িত্ব নয়। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান শেষ হওয়ার পর পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত পতাকা কোথায় এবং কী ভাবে ফেলা হবে, তা নিয়েও নাগরিকদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। জীর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় পতাকা সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিগত ভাবে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে, সম্ভব হলে দাহ করে অথবা জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে এমন অন্য কোনও উপযুক্ত পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

কাছাড়ের জেলাশাসক রাহুল কুমার গুপ্তা বলেন, “তিরঙ্গা প্রত্যেক ভারতীয়র। গর্বের সঙ্গে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন আমাদের দেশপ্রেমের প্রকাশ আর তার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ভাবে শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় পতাকার গুরুত্ব এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রশাসনের আশা, উৎসাহের সঙ্গে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ পালনের পাশাপাশি কাছাড়ের মানুষ দায়িত্বশীল নাগরিকত্বেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

স্বাধীনতার আবহে কাছাড়ের প্রতিটি ঘরে তিরঙ্গা উড়ুক,তবে সেই তিরঙ্গার সম্মানও থাকুক অটুট। এই বার্তাই দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

“গর্বের সঙ্গে তিরঙ্গা উত্তোলন করুন, তার মর্যাদা রক্ষা করুন এবং অন্যদেরও এই দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করুন”,কাছাড় জেলা প্রশাসনের আবেদন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *