,

ভাঙা রাস্তার ফাঁদে প্রাণ যায় অবস্থা, অটোর ধাক্কায় আহত স্কুটি চালক – দাস কলোনির বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শিলচর শহরের জনবহুল দাস কলোনি এলাকায় ভাঙাচোরা রাস্তার গর্তের কারণে ঘটে গেল আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকার প্রধান রাস্তাটির কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে সম্পূর্ণ রাস্তাজুড়ে বড় বড় খানাখন্দ আর গর্ত। পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর চারচাকা বা তিনচাকা যানবাহন চলাচল যেন…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শিলচর শহরের জনবহুল দাস কলোনি এলাকায় ভাঙাচোরা রাস্তার গর্তের কারণে ঘটে গেল আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকার প্রধান রাস্তাটির কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে সম্পূর্ণ রাস্তাজুড়ে বড় বড় খানাখন্দ আর গর্ত। পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর চারচাকা বা তিনচাকা যানবাহন চলাচল যেন মৃত্যুকূপ পেরোনোর সামিল। কখন কোথায় কী দুর্ঘটনা ঘটবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন প্রাণ হাতে নিয়ে অফিস, স্কুল, বাজার করছেন।

আজও সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাস্তার একটি বড় গর্ত বাঁচাতে গিয়ে স্কুটি চালক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে উল্টোদিক থেকে ছুটে আসা একটি অটোর সঙ্গে সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। ধাক্কার অভিঘাতে স্কুটি দুমড়ে মুচড়ে যায়, আর চালক ছিটকে সড়কের উপর আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে মুহূর্তের মধ্যে জড়ো হয়ে যান শতাধিক মানুষ। স্থানীয় সচেতন পথচারীরা তৎক্ষণাৎ আহত চালককে রাস্তা থেকে তুলে পাশের একটি দোকানে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক সেবার ব্যবস্থা করেন। ভাগ্যক্রমে বড়সড় প্রাণহানি না ঘটলেও চালক গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এক বয়স্ক পথচারীর মন্তব্য সকলের মনের কথা হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “কোটি কোটি টাকা রাস্তার কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসছে, কাগজে কলমে কাজও দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দাস কলোনির রাস্তার চেহারা একই রয়ে গেছে। প্রশাসন কি মানুষের প্রাণের দাম দেবে?”

এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও তীব্র হয় যখন দেখা যায়, একদিকে সাধারণ মানুষ ভাঙা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর মন্ত্রীদের আগমন উপলক্ষে রাস্তার দুই ধারে বড় বড় তোরণ আর গেট বসিয়ে জোরকদমে রূপসজ্জা চলছে। সেই কাজে কত লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে তার কোনো হিসেব নেই। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে মন্ত্রীরা যাবেন, সেই রাস্তার কয়েক মিটার দূরেই সাধারণ মানুষের চলার রাস্তা মৃত্যুফাঁদ হয়ে রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, জনপ্রতিনিধিদের সম্মান জানানো কি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার চেয়েও বেশি জরুরি?

যাদের ভোটে সরকার গঠিত হয়, সেই সাধারণ ভোটাররাই আজ রাস্তার বেহাল দশার জন্য প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দাস কলোনির এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি গোটা শহরের ভাঙা পরিকাঠামোর প্রতিচ্ছবি। সরকারের কাছে এলাকাবাসীর একটাই দাবি – তোরণ নয়, আগে রাস্তা সারান। ছবিতে দেখা যাচ্ছে দুর্ঘটনার পর আহত চালককে ঘিরে মানুষের ভিড় এবং রাস্তার ভয়াবহ বেহাল অবস্থা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *