নিউ জলপাইগুড়ি-দিল্লি রুটের প্রস্তাব দিলেন রেলমন্ত্রী। আগে বারাণসী পর্যন্ত কথা ছিল। শিলিগুড়িতে মাটির নিচে রেলপথ, দুই লাইন – পরিকাঠামোও বদলাবে
বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। শিলিগুড়ি: মাত্র ৬ ঘণ্টায় নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দিল্লি। শনিবার শিলিগুড়িতে এসে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা করতেই খুশির হাওয়া লেগেছে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি জুড়ে।
এত দিন কেন্দ্রের পরিকল্পনা ছিল নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত দ্রুতগতির ট্রেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী জানান, পথ আরও লম্বা হচ্ছে। পাটনা, বারাণসী, লখনউ হয়ে সোজা দিল্লি পর্যন্ত যাবে দ্রুতগতির ট্রেন।
ঘোষণায় খুশি উত্তরবঙ্গবাসী। কিন্তু প্রশ্নও উঠছে – কাজ শেষ হতে কত দিন, আর ভাড়া কত হবে?
টিকিটের যন্ত্রণা ঘুচবে?
রেল সূত্রের খবর, রোজ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গড়ে ৪০ জোড়া ট্রেন ছাড়ে। তা সত্ত্বেও দিল্লির টিকিট পাওয়া দুঃস্বপ্ন। ফলে বিমানের ওপর ভরসা করতে হয় অনেককে। দ্রুতগতির ট্রেন চালু হলে সেই সঙ্কট মিটবে বলেই আশা।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
শিলিগুড়ির নিরাপত্তাকর্মী দিলীপ দাস: “৬ ঘণ্টায় দিল্লি যাওয়া যাবে – দারুণ ব্যাপার। তবে ভাড়া কত হবে, সেটাই আসল প্রশ্ন। মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে রাখতে হবে।”
ব্যবসায়ী শোভন রায়: “কাজের সূত্রে দিল্লি যেতেই হয়। যত ভাড়াই হোক, আমি প্রথম দিনই চড়তে চাই।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিশ্বনাথ সান্যাল: “এ বার মনে হচ্ছে শিলিগুড়ির উন্নয়ন হবে। দ্রুতগতির ট্রেন, মাটির তলা দিয়ে ট্রেন। মরার আগে সবই যেন দেখে যেতে পারি।”
পরিকাঠামোয় বড় বদল
রেল শুধু দ্রুতগতির ট্রেনেই থেমে নেই। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে মাটির তলা দিয়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে আলুয়াবাড়ি পর্যন্ত পথ আরও শক্তিশালী হবে। নিউ জলপাইগুড়ি-বাগডোগরা পথেও দুই লাইন তৈরি হবে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সব প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনার কাজ চলছে। বিস্তারিত পরিকল্পনা ছাড়া কাজ শুরু হবে না। তাই প্রকল্প শেষের নির্দিষ্ট সময় এখনও জানায়নি রেল।
রাজনৈতিক বয়ান
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “অনেক আগেই কেন্দ্রীয় সরকার শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে রেল পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জন্য সেগুলি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছিল না। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জটিলতা কেটেছে। তার সঙ্গে শিলিগুড়ি পাচ্ছে দ্রুতগতির ট্রেন।”
বড় প্রশ্ন দুটি
১.কবে চালু হবে?বিস্তারিত পরিকল্পনা, জমি নেওয়া, সুড়ঙ্গ – সব মিলিয়ে দ্রুতগতির ট্রেনের কাজ সময়সাপেক্ষ। রেল এখনও দিনক্ষণ বলেনি।
২.ভাড়া কত? মুম্বই-আহমেদাবাদ দ্রুতগতির ট্রেনের ভাড়া বিমানের কাছাকাছি। উত্তরবঙ্গের মধ্যবিত্ত যাত্রীরা সাধ্যের মধ্যে ভাড়া চাইছেন।
আপাতত ঘোষণায় উচ্ছ্বাস। কাজ শেষ হলে নিউ জলপাইগুড়ি-দিল্লির দূরত্ব শুধু কমবে না, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মানচিত্রও বদলাবে।












