,

অসমে নতুন ভূমি আইন: ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ৫ কিমি এলাকায় জমি কিনতে পারবেন কারা? ‘আদি বাসিন্দা’র নতুন সংজ্ঞা

২০২৬ সালের সংশোধনী বিল পাস, ২০০৬ সাল কাট-অফ, ৩ প্রজন্মের শর্ত বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিসপুর : অসমের ২৫০ বছরের পুরনো ‘আইকনিক হেরিটেজ প্রতিষ্ঠান’ রক্ষার জন্য বিধানসভায় বুধবার পাস হল ‘অসম ভূমি ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬’। এই আইনের মাধ্যমে রাজ্য সরকার ‘আদি বাসিন্দা’র নতুন সংজ্ঞা ঠিক করে দিল। ২০২৪ সালে মূল আইন পাস হলেও তা…

২০২৬ সালের সংশোধনী বিল পাস, ২০০৬ সাল কাট-অফ, ৩ প্রজন্মের শর্ত

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিসপুর : অসমের ২৫০ বছরের পুরনো ‘আইকনিক হেরিটেজ প্রতিষ্ঠান’ রক্ষার জন্য বিধানসভায় বুধবার পাস হল ‘অসম ভূমি ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬’। এই আইনের মাধ্যমে রাজ্য সরকার ‘আদি বাসিন্দা’র নতুন সংজ্ঞা ঠিক করে দিল।

২০২৪ সালে মূল আইন পাস হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৬-এর সংশোধনীতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করা হয়েছে — ১ প্রজন্ম = ২৫ বছর এবং কাট-অফ তারিখ ১ জানুয়ারি ২০০৬।

বিলের মূল বিষয়গুলো

১. সুরক্ষিত এলাকা
২৫০ বছর বা তার বেশি পুরনো যে কোনো ‘আইকনিক হেরিটেজ প্রতিষ্ঠান’-এর চারপাশে ৫ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকা ‘সুরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত হবে। এই প্রতিষ্ঠান যে কোনো ধর্মের হতে পারে — মন্দির, মসজিদ, সত্র ইত্যাদি।

২. কারা জমি কিনতে/রাখতে পারবেন
এই ৫ কিমি এলাকার মধ্যে নতুন করে জমি কিনতে বা ধরে রাখতে পারবেন শুধু নিচের শ্রেণির মানুষ:
আদি বাসিন্দা: যিনি তাঁর পরিবার সহ ১ জানুয়ারি ২০০৬ পর্যন্ত পরপর ৩ প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। ১ প্রজন্ম = ২৫ বছর।
তফসিলি জাতি
তফসিলি উপজাতি
আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী: বিলে মোরান, মাতক, চুতিয়া, কোচ-রাজবংশী ও আহোমকে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী: চা-জনজাতি, আদিবাসী ও সরকার সময়ে সময়ে যে সব সম্প্রদায়কে এই তালিকায় রাখবে।

৩. যারা আগে থেকেই আছেন তাদের কী হবে?
যাদের কাছে বৈধ জমির পাট্টা আছে, তারা ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে ওই এলাকায় থাকতে পারবেন। আইন পূর্ববর্তী কার্যকর হবে না।
২০০৬ সাল পর্যন্ত ৩ প্রজন্ম ধরে বসবাস করলে পাট্টা না থাকলেও থাকার অনুমতি মিলবে।

৪. উচ্ছেদের বিধান
জেলা আয়ুক্ত অননুমোদিতভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে পারবেন। তবে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন?
আলোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিলটিকে রাজ্যের আনা ‘সবচেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ’ আইন বলে উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্ট:
“২৫০ বছরের পুরনো যে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই এই আইনের আওতায় সুরক্ষিত। শর্ত সবার জন্য সমান।”
“২০০৬ সাল পর্যন্ত ৩ প্রজন্ম ধরে যারা সেখানে আছেন, পাট্টা না থাকলেও থাকতে পারবেন।”
“হিন্দু, মুসলিম বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর কেউই এই সুরক্ষিত এলাকার মধ্যে নতুন করে জমি কিনতে পারবেন না।”
“অননুমোদিতভাবে যারা থাকবেন তাদের উচ্ছেদ করা হবে।”
“আমরা ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু উভয়কেই ৫ কিমি এলাকার বাইরে রাখছি। একে অপরকে সম্মান করে নতুন বৃহত্তর অসম গড়ে তুলি।”

সারসংক্ষেপ
নতুন আইনের লক্ষ্য ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের চারপাশে জমি কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণ করা। এর ফলে ২৫০ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশে জনসংখ্যার পরিবর্তন রোধ এবং ঐতিহ্য রক্ষা করাই সরকারের উদ্দেশ্য।

আইনটি এখন রাজ্যপালের অনুমতির পর কার্যকর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *