২২ ও ২৩ আগস্ট রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন-১ নম্বর হলে বসছে জমজমাট আসর, প্রতিপাদ্য ‘মানুষ সত্য’
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। আগরতলা : বাউল সম্রাট মহাত্মা লালন ফকিরের ১৩৬ তম তিরোধান দিবসকে স্মরণ করে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট ২০২৬, শনিবার ও রবিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন-১ নম্বর হলে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুই দিনব্যাপী ‘লালন ও ফোক ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যের সহযোগিতায় এই বিশাল সাংস্কৃতিক আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ‘লালন এন্ড ফোক কালচার ফাউন্ডেশন’। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উৎসবে সকলের জন্য প্রবেশ অবাধ থাকবে।এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “মানুষ সত্য”। লালনের মানবতাবাদী দর্শন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বাংলার চিরাচরিত লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। আয়োজকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে লালনের গান ও দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এই দুই দিনের সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞে আসাম-শিলচর, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট লালন ও লোকসঙ্গীত শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, কবি ও সংস্কৃতিজনেরা এক মঞ্চে মিলিত হবেন। বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণ করবেন পরেশ সরকার, চয়নিকা পাল, ইদ্রিস ফকির, গোরাচাঁদ বাউল, ড.অসীম রায়, কবিতা কর, নৃত্যশিল্পী গায়ত্রী দেব, আইনজীবী সোনালী দে, স্বপন দাস বাউল, দিপা দাস, শ্যামল মুখার্জী, আল্পনা সরকার, সুষমা দেবনাথ, শিখা ধর, মিলন দাস, খুলনার কথা শিল্পী, বিমল কুমার দেবনাথ, স্বপন দেবনাথ, কাকলি দাস, স্বপ্না মুখার্জী, ঝর্ণা সরকার, সঙ্গীতা দাস, শম্পা পাল, ঝুমা রুদ্রপাল, মৌসুমী ভট্টাচার্য, অরূপ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রীতি দেবনাথ, রমেশ দাস, কলকাতার অঙ্কুর লোকদল, বলাই রায়, গণেশ চন্দ্র দে, রীতা সরকার, মিনাক্ষী দাস, অর্পনা দাস, হিরক সরকার, জানকী সিনহা, অনুরাধা রায়, সীমা ভট্টাচার্য, নিরঞ্জন অধিকারী, পাপীয়া মণ্ডল এবং শিক্ষিকা সিদ্ধার্থ মণ্ডল।
আসাম শিলচর থেকে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন শিলচর ইয়ুথ কয়্যার এবং নৃত্যাঞ্জলি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংস্থার নৃত্যশিল্পীরা। তাদের দলনেতা হিসেবে থাকছেন আন্তর্জাতিক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সন্তোষ চন্দ। নৃত্য পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন আইনজীবী সোনালী দে এবং শিক্ষিকা গায়ত্রী দেব। এছাড়াও একক সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করবেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী শান্তিকুমার ভট্টাচার্য এবং বিশিষ্ট শিক্ষিকা বাপি রায়। সন্তোষ চন্দ এবং সোনালি দে জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানে বিহু, ধামাইল, লালন সহ বিভিন্ন লোক কবির গান পরিবেশিত হবে এই দুদিনের মঞ্চে। আয়োজকরা জানান, উৎসবে উপস্থিত থাকবেন তিন রাজ্যের বিশিষ্ট অতিথিরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, ত্রিপুরার মৎস্য ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস, আইএএস রতন বিশ্বাস, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সন্তোষ কুমার দাস, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ-সভাপতি সুব্রত চক্রবর্তী, সাংবাদিক ও সাবেক কালচারাল সোসাইটির এ.টি.এম. মমতাজুল করিম, বিশিষ্ট লালন গবেষক ড. অমলকান্তি রায়, শিক্ষাবিদ ড.রতন কুমার বাড়ৈ ও ড.অনিমা বাড়ৈ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বপন কুমার দেবনাথ, সুশীল কুমার দাস, দেবাশীষ ভট্টাচার্য, সুধীন দাশগুপ্ত, ড.অসীম রায়, সমাজসেবী বিপ্লবী চক্রবর্তী, শ্যামল মুখার্জী, সুভ্রা সরকার, খুশি মজুমদার, দীপালী দত্ত, চয়নিকা পাল, নিরঞ্জন বিশ্বাস, গণেশ চন্দ্র দে, শিলচর থেকে সন্তোষ চন্দ এবং বিষ্ণুপদ টিকাদার। উৎসবের দুই দিন জুড়ে শুধু গান নয়, থাকবে লালন ফকিরের জীবন দর্শন নিয়ে বিশিষ্টজনের আলোচনা, কবিতা পাঠ, প্রবন্ধ পাঠ এবং বিভিন্ন নৃত্যানুষ্ঠান। লালনগীতি ও লোকসঙ্গীতের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও এই মঞ্চে তাদের পরিবেশনা তুলে ধরবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উৎসবের মাধ্যমে লালনের “মানুষ সত্য” দর্শন সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়বে এবং লোকসংস্কৃতির চর্চা আরও জোরদার হবে।
উৎসবকে সফল করে তুলতে সকল সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন লালন এন্ড ফোক কালচার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, কার্যকরী সভাপতি বিমল দেবনাথ, আহ্বায়ক বিকাশ রায় এবং সম্পাদক পরেশ সরকার।












