,

মাওবাদীমুক্ত ছত্তীসগঢ়ে প্রথম ভোটেই ধাক্কা বিজেপির, ‘হাত’ ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে?

পুরভোটের ফল বলছে, উন্নয়নের ইস্যুতে ব্যবধান কমাচ্ছে কংগ্রেস। ২০২৮-এর আগে রায় পুরের অঙ্ক বদলাবে? বিশেষ প্রতিবেদন: নিরাপত্তার খাতায় বড় সাফল্য। গত ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া সময়সীমা মেনেই ছত্তীসগঢ়কে ‘মাওবাদীমুক্ত’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। বস্তারের জঙ্গল থেকে লাল সন্ত্রাস মুছে গেছে – এটা গেরুয়া শিবিরের বড় প্রচারের হাতিয়ার। কিন্তু মাওবাদীমুক্ত রাজ্যে প্রথম ভোটেই ছবিটা…

পুরভোটের ফল বলছে, উন্নয়নের ইস্যুতে ব্যবধান কমাচ্ছে কংগ্রেস। ২০২৮-এর আগে রায় পুরের অঙ্ক বদলাবে?

বিশেষ প্রতিবেদন: নিরাপত্তার খাতায় বড় সাফল্য। গত ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া সময়সীমা মেনেই ছত্তীসগঢ়কে ‘মাওবাদীমুক্ত’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। বস্তারের জঙ্গল থেকে লাল সন্ত্রাস মুছে গেছে – এটা গেরুয়া শিবিরের বড় প্রচারের হাতিয়ার। কিন্তু মাওবাদীমুক্ত রাজ্যে প্রথম ভোটেই ছবিটা একটু অন্যরকম।

১ জুন হওয়া ৫টি নবগঠিত নগর পঞ্চায়েত ও কয়েকটি পুরসভার উপনির্বাচনের ফল বলছে, জিতেছে বিজেপি ঠিকই, তবে কংগ্রেস যে ফের লড়াইয়ে ফিরছে তা স্পষ্ট। ভোট পড়েছিল ৮৪.৫৮ শতাংশ – যা স্থানীয় ভোটে যথেষ্ট বেশি।

ফলের অঙ্ক: জয়ের চেয়ে বার্তা বড়
চেয়ারপার্সন পদের নিরিখে ৫-এর মধ্যে ৩টি পেয়েছে বিজেপি। জঞ্জগীর-চম্পার বামহনিডি, সুরজপুরের শিবানন্দনপুর, কবীরধামের সাহসপুর-লোহারা – এই তিন জায়গায় পদ্ম ফুটেছে। কংগ্রেস পেয়েছে ২টি – রাজনন্দগাঁওয়ের ঘুমকা ও বালোডের পালারি।

আসল লড়াইটা ধরা পড়ছে কাউন্সিলর আসনে। ৭১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৩৯, কংগ্রেস ৩০। মাঝে মাত্র ৯টি আসনের ফারাক। ২টি আসন গেছে নির্দলদের কাছে। অর্থাৎ, একতরফা জয় নয়, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

ফলের পেছনের ছবি
এই পুরভোটের মানে বুঝতে গেলে গত দুটো বড় নির্বাচনের দিকে তাকাতে হবে। ২০২৩-এর বিধানসভায় ৯০ আসনের মধ্যে ৫৪টি জিতে কংগ্রেসকে হটিয়ে রায় পুরের মসনদ দখল করে বিজেপি। তারপর ২০২৪-এর লোকসভায় ছত্তীসগঢ়ের ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিই দখল করে পদ্ম শিবির। কংগ্রেস পায় মাত্র ১টি।

দুটো নির্বাচনেই মোদী-শাহ ‘মাওবাদীমুক্ত ছত্তীসগঢ়’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ৩১ মার্চ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ার পর এটাই প্রথম ভোট। লোকসভায় ১১-এর মধ্যে ১০টি আসন জেতার পর পুরভোটে কাউন্সিলরে ৩৯-৩০ এ নেমে আসা – ব্যবধান কমাটাই বিজেপির জন্য বড় বার্তা।

কেন কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াচ্ছে? ৩টি কারণ
১.ইস্যুর বদল: মাওবাদ দমন হয়ে যাওয়ার পর ভোটের অক্ষ ঘুরছে উন্নয়ন, বেকারত্ব, কৃষক ও আদিবাসী অধিকারের দিকে। নিরাপত্তার ইস্যুতে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, রুটি-রুজির লড়াইয়ে কংগ্রেস জায়গা করে নিচ্ছে।

২.সংগঠন ঝালাই: লোকসভা ও বিধানসভার পরাজয়ের পর ছত্তীসগঢ় কংগ্রেস সংগঠন ঢেলে সাজাচ্ছে। পুরভোটে সেই সংগঠনের শক্তি ধরা পড়ল। বুথস্তরে লড়াই দিতে পারছে হাত শিবির।

৩.স্থানীয় অসন্তোষ: নতুন নগর পঞ্চায়েত গঠন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল স্তরে কিছু ক্ষোভ ছিলই। মাওবাদী ইস্যু সরে যাওয়ায় সেই ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

বিজেপির জন্য সতর্কবার্তা
শাসকদল চেয়ারপার্সন ও কাউন্সিলর – দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই হার বলেনি কেউ। কিন্তু যে রাজ্যে লোকসভায় ১১-এর মধ্যে ১০টি আসন জিতেছিল বিজেপি, সেখানে পুরভোটে ৭১-এর মধ্যে ৩৯ পাওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে যখন ভোট হচ্ছে ‘মাওবাদীমুক্ত’ হওয়ার পরে, যখন আইন-শৃঙ্খলার কৃতিত্ব পুরোটাই শাসকদলের।

২০২৮-এর আগে কী ইঙ্গিত?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটা কংগ্রেসের ‘প্রত্যাবর্তন’ বলা যাবে না, তবে ‘পুনরুদ্ধারের শুরু’ বলা যায়। বিধানসভার দেড় বছর বাকি। এই সময়ে যদি কংগ্রেস উন্নয়নের বিকল্প ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে, আর বিজেপি যদি স্থানীয় ক্ষোভ সামলাতে না পারে, তাহলে রায় পুরের কুর্সির অঙ্ক পাল্টাতে পারে।

আপাতত ছত্তীসগঢ়ের রাজনীতি একটা নতুন পর্বে ঢুকল। যেখানে বন্দুকের বদলে ব্যালটই ঠিক করবে কে থাকবে ক্ষমতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *