,

গোয়ালপাড়ার স্কুলে টিফিনে গো-মাংস খেতে জোর! হিন্দু ছাত্রের মুখে ধরার অভিযোগ – গ্রেফতার ১, জেলাজুড়ে টিফিনে আমিষ নিষিদ্ধ

সুমিত আলমের বিরুদ্ধে দুই হিন্দু ছাত্রকে জোরের অভিযোগ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কড়া নির্দেশিকা গোয়ালপাড়া। ৬ জুন: টিফিনের সময় মাংস ভাগাভাগি থেকে বড় অশান্তি। গোয়ালপাড়া জেলার কৃষ্ণাই এলাকার হাব্রাঘাট উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র সুমিত আলম টিফিনে গো-মাংস নিয়ে এসে আরও পাঁচ সহপাঠীর সাথে ভাগ করে খায় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, ঘটনা এখানেই…

সুমিত আলমের বিরুদ্ধে দুই হিন্দু ছাত্রকে জোরের অভিযোগ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কড়া নির্দেশিকা

গোয়ালপাড়া। ৬ জুন: টিফিনের সময় মাংস ভাগাভাগি থেকে বড় অশান্তি। গোয়ালপাড়া জেলার কৃষ্ণাই এলাকার হাব্রাঘাট উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র সুমিত আলম টিফিনে গো-মাংস নিয়ে এসে আরও পাঁচ সহপাঠীর সাথে ভাগ করে খায় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, ঘটনা এখানেই থামেনি। একই শ্রেণির দুই হিন্দু ছাত্রকেও জোর করে গো-মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। হিরকজ্যোতি নামের এক ছাত্রের মুখে ধরে গো-মাংস ঢোকানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তারা শোনেনি। শেষে ধাক্কা খেয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয় ওই ছাত্র। আরেক হিন্দু ছাত্রকেও একইভাবে খাওয়ানোর চেষ্টা হয়।

মায়ের অভিযোগ ও বিক্ষোভ
ভুক্তভোগী দুই ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ছেলেরা বিমর্ষ হয়ে পড়ে। জিজ্ঞেস করলে তারা সব জানায়। ছাত্ররা এও জানায়, স্কুলের শিক্ষক তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা বলতে বারণ করেছিলেন।

শুক্রবার রাতে কৃষ্ণাই থানায় মামলা দায়ের করেন অভিভাবকরা। শনিবার সকাল থেকে স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ঘটনার স্পর্শকাতরতা বুঝে স্কুলে ছুটে যান জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ তুমুং ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার নবজিৎ মহন্ত।

পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বয়ান
পুলিশ অভিযুক্ত সুমিত আলমের মা নূর সাহিদা বেগমকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, টিফিনে গো-মাংস দেওয়া অভিভাবকের ভুল ছিল। অভিযুক্ত ছাত্র সুমিত ও আরও পাঁচ সহপাঠীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্ররা প্রথমে মহিবুল স্যারের কাছে অভিযোগ করে। অভিযুক্ত ছাত্রদের শাস্তি ও লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। তবে স্কুলে গো-মাংস দেওয়া অভিভাবকের উচিত হয়নি।”

ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলাজুড়ে নতুন নিয়ম
এই ঘটনার পরই গোয়ালপাড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তর কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। জেলার সব স্কুলের প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে:

১.খাবারের নিয়ম: এখন থেকে সব ছাত্র-ছাত্রীর টিফিনে কেবল নিরামিষ খাবারই আনা যাবে। স্কুল চত্বরে আমিষ খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২.ডিমে ছাড়: তবে টিফিনের অংশ হিসেবে ডিম আনা ও খাওয়ার অনুমতি থাকবে।
৩.প্রচার ও পালন: এই নির্দেশ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সব কর্মীর মধ্যে প্রচার করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪.স্কুল ছাড়া নিষেধ: টিফিন ও অবসর সময়ে কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে স্কুল চত্বরের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।

প্রতিক্রিয়া
অনেক অভিভাবক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “স্কুলে সব ধর্মের ছাত্র পড়ে। সবার ধর্মীয় ভাবনা মাথায় রেখে নিয়ম করা উচিত।”

তবে কিছু অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, “বাড়ি থেকে কী খাবার দেবে সেটা ঠিক করে দেওয়া কতটা ঠিক?”

আপাতত স্কুলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *