,

১৯৬১-র ভাষা আন্দোলনের দাবি এখনও পূরণ হয়নি, বাংলা ভাষাকে রাজ্য ভাষার স্বীকৃতির দাবি মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতির

ডিমাসা ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি, বরাকে বিষ্ণুপ্রিয়া ও ডিমাসাকেও স্বীকৃতির দাবি নিজস্ব প্রতিনিধি। শিলচর: ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলনের দাবিগুলো ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পেলেও আজও বাংলা ভাষা রাজ্য ভাষার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এই অভিযোগ তুলে অনতিবিলম্বে বাংলা ভাষাকে রাজ্য ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি, কাছাড়। সংগঠনের সভাপতি সুনীল রায় এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৯…

ডিমাসা ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি, বরাকে বিষ্ণুপ্রিয়া ও ডিমাসাকেও স্বীকৃতির দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি। শিলচর: ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলনের দাবিগুলো ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পেলেও আজও বাংলা ভাষা রাজ্য ভাষার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এই অভিযোগ তুলে অনতিবিলম্বে বাংলা ভাষাকে রাজ্য ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি, কাছাড়।

সংগঠনের সভাপতি সুনীল রায় এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৯ জুলাই ডিমাহাসাও জেলায় ডিমাসা ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তাঁর মতে এই স্বীকৃতি আরও অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল। একইসঙ্গে বরাক উপত্যকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ও ডিমাসা ভাষাকেও মহকুমা ভিত্তিক মণিপুরী ভাষার মতো স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করার দাবি জানান তিনি।

১০টি ভাষা স্বীকৃতি পেলেও বাংলার বঞ্চনা
সুনীল রায় বলেন, ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার প্রায় দশটি ভাষিক সংখ্যালঘুর ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে বড়ো ভাষা রাজ্য ভাষার স্বীকৃতিও পেয়েছে। অথচ রাজ্যের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও তারা আজও উপযুক্ত মর্যাদা পাচ্ছে না।

তিনি স্মরণ করান, ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর রেল স্টেশনে মাতৃভাষার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ১১ জন শহীদ হন। শহীদদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রী কমলা ভট্টাচার্যও। শতাধিক আহত হন। “ভারতের ইতিহাসে এটাই প্রথম মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন। সেই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল বাংলা ভাষাকে রাজ্য ভাষার স্বীকৃতি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষাকে মর্যাদা দেওয়া,” বলেন তিনি।

জনগণনা ও বিভেদ নীতির সমালোচনা
সুনীল রায়ের অভিযোগ, জনগণনায় সবাই যদি নিজেদের মাতৃভাষা সঠিকভাবে লেখেন, তাহলে যারা নিজেদের ভাষাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে দাবি করেন তারা আর সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবেন না।

তিনি বলেন, “বহুভাষিক অসমে সব ভাষা ও সংস্কৃতিই সুন্দর। সব ভাষাই সমান স্বীকৃতি পেতে পারে। এতে অন্য ভাষার অবক্ষয় হবে না। কাছাড়ের ডিমাসা রাজারা বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেছেন। বহু মণিপুরী সাহিত্যিক বাংলা চর্চা করে সমৃদ্ধ করেছেন।”

অন্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে দাবি
ঝাড়খণ্ডে মাত্র ১০ শতাংশ বাঙালি থাকা সত্ত্বেও সেখানে বাংলা রাজ্য ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। অসমে ৬ শতাংশের কম বড়ো ভাষা রাজ্য ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ ৩০ শতাংশের বেশি বাংলা ভাষা সেই স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এর পক্ষে কোনো নৈতিক বা আইনি যুক্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

“সরকারের এই বিভেদ নীতি অসমের সব ভাষিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও সম্প্রীতির অন্তরায়,” বলেন সুনীল রায়।

তাই রাজ্যের সার্বিক স্বার্থে অনতিবিলম্বে বাংলা ভাষাকে রাজ্য ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *