বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ‘আহিছে, আহিছে, হিমন্ত আহিছে, আশার বতরা লই’— ভোটের প্রচারে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই গানকে সত্যি করে মঙ্গলবার মেরেকেটে মাত্র ২২ মিনিটের গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিলেন ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। শপথের আগে জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মঞ্চে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন আর্থিক-সামাজিক নিরাশার অন্ধকারে ডুবে থাকা লোকদের মনে আশা জাগাতে পারেন একমাত্র হিমন্তই, এই বিশ্বাসেই অসমবাসী ভোটের ঝুলি উপুড় করে এনডিএ-কে একশো পার করিয়েছেন। দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটে জনগণের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে নাড়তে খানাপাড়ার বিশাল মঞ্চে এসে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এরপর মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রী হিসেবে একে একে শপথ নেন রামেশ্বর তেলি, অতুল বরা ও চরণ বড়ো। এই স্বল্প সময়ের শপথেই স্পষ্ট বার্তা গেল অসম আর ‘ধীরে-ধীরে চলা’ প্রদেশ নয়, উন্নয়নের দৌঁড়ে বহু রাজ্যকে পেছনে ফেলেছে, যা তুলে ধরতেই মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন দেশের ২২টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী, ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী, মার্কিন রাষ্ট্রদূতও এবং কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, চিরাগ পাসোয়ান সহ আধা ডজন মন্ত্রী, অসমের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনও সরকারের শপথে এমন জমকালো উপস্থিতি আগে দেখা যায়নি। গত পাঁচ বছরে ‘অরুণোদয়’ প্রকল্প থেকে ‘লাখপতি বাইদেও’, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা, এলিভেটেড করিডোর থেকে এক্সপ্রেস হাইওয়ে, ব্রহ্মপুত্রের নীচে টানেলের স্বপ্ন বাস্তব করা, সেমিকন্ডাকটর যুগে প্রবেশ করিয়ে পিছিয়ে থাকা অসমে আশার আলো জ্বালিয়েছেন হিমন্ত এবং দেড় লক্ষ বিঘার বেশি বেদখল জমি উদ্ধার করে ধর্ম-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রক্ষায় দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, অসমিয়া জাতি ও হিন্দুর অস্তিত্ব যখন বিপন্ন তখন তিনিই আশা দেখাতে পারেন বলেই হিমন্ত নামের আবেগে মাখামাখি অসমের গরিষ্ঠসংখ্যক জনগণ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের পাঁচ বছর ছিল শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বছর, সর্বত্র উন্নয়নের ভিত স্থাপন করা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেখা যাবে সফল রূপায়ণ এবং সেমিকন্ডাকটর উৎপাদন শুরু, ব্রহ্মপুত্রের নীচ দিয়ে যাতায়াত, কাজিরঙায় এলিভেটেড করিডোর, গুয়াহাটি রিংরোড, গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে গাড়ি ছুটবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করে গত পাঁচ বছরে দেড় লক্ষের বেশি সরকারি চাকরি দেওয়ার পর আগামী পাঁচ বছরে দু-লক্ষ পদে নিয়োগের টার্গেট নিয়েছেন তিনি এবং সংকল্প নিয়েছেন পাঁচ লক্ষ বিঘা জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মন্দির, সত্র, নামঘর রক্ষার পাশাপাশি অসমিয়া জাতিকে সাংবিধানিক দিক থেকে সুরক্ষিত করার। শপথ মঞ্চের ব্যাকড্রপে রাখা হয়েছিল অসমের পরিচয় কামাখ্যা পীঠ ও আহোম সাম্রাজ্যের স্থপতি ‘রংঘর’-এর ছবি এবং শ্রীমন্ত শংকরদেব প্রবর্তিত সত্র সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে মূল মঞ্চের পাশেই বসেছিলেন অন্তত ৩০ জন সত্রাধিকার, শপথের আগে হিমন্ত সেখানে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন ও সত্রাধিকাররা তাঁর মাথায় পরিয়ে দেন মাঙ্গলিক প্রতীক, ফলে বিজেপি সরকারের শপথের অনুষ্ঠানে অসমের ধর্মীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে যা অনুষ্ঠানকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেন ভর্তি হয়ে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী হাজির হলেও সারা দেশের ভিভিআইপিদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানানো থেকে হোটেল হয়ে মঞ্চে আনা, প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ করে সব কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, কোথাও ত্রুটি-বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা-সংশয় দেখা যায়নি এবং মহানগরে প্রচুর গাড়ির আগমনে যানজট হলেও শপথের অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটেনি, সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছে পুলিশ প্রশাসন। বিজেপির ৮২ জন বিধায়ক ও শরিক দল মিলে ১০২ জন থাকায় বিধানসভায় যে কোনও বিল অনায়াসে পাশ হবে, বিরোধীদের ন্যূনতম প্রতিরোধও থাকবে না এবং আগামী কয়েক দিনে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করেই দ্রুত বিকাশ থেকে জাতির অস্তিত্ব রক্ষার কাজে গতি আনবেন মুখ্যমন্ত্রী, কারণ এনডিএ ৩.০ সরকার হতে পারে অপ্রতিরোধ্য এবং আগামী পাঁচ বছরে সরকারের সাফল্যের উপরই নির্ভর করবে বিকশিত অসমের জয়যাত্রা।
‘আশার বতরা’ হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে হিমন্ত, ২২ মিনিটের শপথেই দেশকে দেখাল নতুন অসম
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ‘আহিছে, আহিছে, হিমন্ত আহিছে, আশার বতরা লই’— ভোটের প্রচারে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই গানকে সত্যি করে মঙ্গলবার মেরেকেটে মাত্র ২২ মিনিটের গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিলেন ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। শপথের আগে জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মঞ্চে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন আর্থিক-সামাজিক নিরাশার অন্ধকারে ডুবে থাকা লোকদের মনে আশা জাগাতে পারেন একমাত্র হিমন্তই,…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












