শিলচরে বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের স্মরণসভা, মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: বরাক উপত্যকার শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত মহীতোষ পুরকায়স্থের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করল বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়ন। মঙ্গলবার শিলচরের ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই উপলক্ষে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও ‘মহীতোষ পুরকায়স্থ মূর্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি’।
শ্রমিক আন্দোলনের কাণ্ডারি
স্মরণসভায় বক্তারা মহীতোষ পুরকায়স্থের বর্ণময় কর্মজীবন তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, অসম তথা বরাকের চা শ্রমিকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে মহীতোষ পুরকায়স্থের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শ্রমিকদের কথা বলার জন্য ‘শ্রমিক পত্রিকা’ নামে মুখপত্রের প্রথম সম্পাদকের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি শুধু শ্রমিক আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা এবং বরাক উপত্যকার ন্যায্য দাবি আদায়ের সংগ্রামেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ত্যাগ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন উপস্থিত বক্তারা।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি ও প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিং, অধ্যাপক বিভা গীর্বান, অধ্যাপক রঞ্জন বিশ্বাস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহাবীর প্রসাদ জৈন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতার নাতনি গৌরী দত্ত বিশ্বাস, অধ্যাপক বিভাস রঞ্জন চৌধুরী এবং কছাড় কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও ইউনিয়নের উপদেষ্টা সন্তোষ রঞ্জন চক্রবর্তী ওরফে বাবুল কানু।
মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ
মহীতোষ পুরকায়স্থের অবদানকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে শিলচর শহরে তাঁর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ‘মহীতোষ পুরকায়স্থ মূর্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি’ গঠন করে কাজ শুরু করেছে। অনুষ্ঠানে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিগগিরই মূর্তি স্থাপনের জায়গা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করা হবে।
স্মরণসভার শেষে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।












