,

শিবালিক পার্কে বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ২১ জুন, শনিবার শিলচরের শিবালিক পার্ক এলাকায় সাড়ম্বরে উদযাপিত হল বিশ্ব সঙ্গীত দিবস। শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটি-র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগীতের মূর্ছনায় ভরে ওঠে গোটা দুর্গামণ্ডপ প্রাঙ্গণ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ওঙ্কারনাথ রায়, সভাপতি শিবালিক পার্ক দুর্গা মণ্ডপ কমিটি, সুদীপ্ত দেবরায়, সভাপতি শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটি, অঞ্জন স্বামী, সভাপতি…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ২১ জুন, শনিবার শিলচরের শিবালিক পার্ক এলাকায় সাড়ম্বরে উদযাপিত হল বিশ্ব সঙ্গীত দিবস। শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটি-র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগীতের মূর্ছনায় ভরে ওঠে গোটা দুর্গামণ্ডপ প্রাঙ্গণ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ওঙ্কারনাথ রায়, সভাপতি শিবালিক পার্ক দুর্গা মণ্ডপ কমিটি, সুদীপ্ত দেবরায়, সভাপতি শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটি, অঞ্জন স্বামী, সভাপতি শিবালিক পার্ক জল সরবরাহ কমিটি এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সম্পাদক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সুদীপ্তা ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চ মাতায় কচিকাঁচারা। ১৪ জন শিশুশিল্পী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বজ্র মানিক দিয়ে গাঁথা” এবং পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে জনপ্রিয় “ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাব” গান দুটি পরিবেশন করে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। এরপর মঞ্চে ওঠেন ৫০ জন শিল্পী। তাঁরা সমবেত কণ্ঠে একে একে পরিবেশন করেন পাঁচটি ভিন্ন স্বাদের গান – রবীন্দ্রসঙ্গীত “সংশয়তিমিরমাঝে না হেরি গতি হে” ও “পান্থ তুমি পান্থজনের সখা হে”, অতুলপ্রসাদের “মনোপথে এলো বনহরিণী”, নজরুলগীতি “রুমঝুম রুমঝুম রুমঝুম রুমঝুম নুপুর বাজে” এবং ভি বালসার আধুনিক গান “যেথা রামধনু ওঠে হেসে আর ফুল ফোটে ভালবেসে”। সুর, লয়, তালের নিখুঁত বন্ধনে বাঁধা এই সমবেত সঙ্গীত দর্শকপূর্ণ মণ্ডপে মুগ্ধতার আবেশ তৈরি করে। তবলায় সঙ্গত করেন বিশ্বজিৎ দেব এবং সিনথেসাইজারে ছিলেন বিধান লস্কর।

উল্লেখ্য, বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে গত ১০ জুন থেকেই শিবালিক পার্ক দুর্গামণ্ডপে শুরু হয়েছিল সঙ্গীত কর্মশালা। শিল্পকলা বিদ্যামন্দির আয়োজিত এই কর্মশালার প্রশিক্ষক ছিলেন সুদীপ্তা ভট্টাচার্য। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৫০ জন শিল্পী এবং শিবালিক পার্কের ছোট বড় প্রায় সকল শিল্পী এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে এদিন কর্মশালায় শেখা গানগুলি সমবেতভাবে পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটি-র পক্ষ থেকে বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে শিল্পী সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মানিত হন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সুদীপ্তা ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী বিধান লস্কর এবং বিশিষ্ট তবলা বাদক বিশ্বজিৎ দেব। সঙ্গীত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীর হাতে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র।

এরপর একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুদীপ্তা ভট্টাচার্য। তাঁর মিষ্টি ও দরদভরা কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি ও দ্বিজেন্দ্রগীতির প্রতিটি সুরের উঠানামা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটির সভাপতি সুদীপ্ত দেবরায় তাঁর দরাজ কণ্ঠে “তাই তোমার আনন্দ আমার পর” রবীন্দ্রসঙ্গীতটি গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মঞ্চে আসেন বিধান লস্কর। তিনি চারখানি লোকসংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠের দরদ ও সুরের টান শ্রোতাদের একেবারে মাটির কাছাকাছি নিয়ে যায়। সবশেষে সচিন দেব বর্মনের “কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া” গানটি গেয়ে তিনি অনুষ্ঠানের ইতি টানেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *