‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর আদর্শে উন্নত, আত্মনির্ভর বিকশিত অসম গড়ব : মুখ্যমন্ত্রী
বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন, গুয়াহাটি: দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গুয়াহাটির জ্যোতি-বিষ্ণু আন্তর্জাতিক কলা মন্দিরে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য ১২ জন বিধায়ককে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলো। মুখ্যমন্ত্রী সহ মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ জন। ১২৬ সদস্যের অসম বিধানসভায় সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ ১৯ জন মন্ত্রী নিযুক্ত করা যায়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা ভোটে জোট ১২৬ আসনের মধ্যে ১০২ আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ভারতীয় জনতা দল ৮২, অসম গণ পরিষদ ১০ ও বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট ১০ আসন পায়। নির্বাচনী বিজয়ের পর সরকারকে আরও শক্তিশালী করতেই আজকের এই সম্প্রসারণ।

১২ মে + ৫ জুন = ১৭ সদস্য
উল্লেখ্য, ১২ মে, ২০২৬-এ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে গঠিত অসমের নতুন মন্ত্রীসভার প্রথম ৪ জন মন্ত্রী শপথ নেন। তাঁরা হলেন অসম গণ পরিষদ সভাপতি অতুল বরা, বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট নেতা চরণ বড়ো, এবং ভারতীয় জনতা দল নেতা অজন্তা নিওগ ও রামেশ্বর তেলি।
আজ শপথ নেওয়া ১২ জন মন্ত্রী হলেন: পীযূষ হাজরিকা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, কৌশিক রায়, কৃষ্ণেন্দু পাল, অশোক সিংহল, রনোজ পেগু, বিমল বরা, কেশব মহন্ত, বিশ্বজিৎ দৈমারী, অশ্বিনী রায় সরকার, সুশান্ত বড়গোহাঁই ও নিলিমা দেবী।

৪ নতুন মুখ, ৮ জন অভিজ্ঞ
১২ জনের মধ্যে ৪ জন প্রথমবার মন্ত্রী হলেন: ভারতীয় জনতা দল বিধায়ক অশ্বিনী রায় সরকার, নিলিমা দেবী, সুশান্ত বড়গোহাঁই এবং প্রাক্তন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারী। সিনিয়র অসম গণ পরিষদ নেতা কেশব মহন্তও মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন।
বাকি ৮ জন অশোক সিংহল, রনোজ পেগু, বিমল বরা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, কৌশিক রায়, কৃষ্ণেন্দু পাল ও পীযূষ হাজরিকা পূর্ববর্তী হিমন্ত মন্ত্রিসভাতেও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলগত হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় ভারতীয় জনতা দল ১৩ জন, অসম গণ পরিষদ ২ জন, বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট ১ জন এবং মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, “আজ অসমবাসীর সেবার এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা হলো। দল অসম জনতা-জনার্দনের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে পদ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়িত্বভার গ্রহণ করল।
‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের এই দলটি একটি উন্নত, আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ বিকশিত অসম গড়ার অভিযান এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
বরাকের দুই মন্ত্রীর প্রথম প্রতিক্রিয়া

কৃষ্ণেন্দু পাল-পাথারকান্দি
দ্বিতীয়বারের মতো মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষ্ণেন্দু পাল বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথের পর তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে শুধু একটি পদ নয়, বরং অসমবাসী তথা পাথারকান্দিবাসির সেবা করার একটি বড় সুযোগ ও দায়বদ্ধতা। জনগণের বিশ্বাস ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমি সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাব। জনগণের সেবাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

কৌশিক রায়, লক্ষীপুর
শপথ গ্রহণের আগে কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিয়ে আসা কৌশিক রায় বলেন, “নতুন মন্ত্রিসভায় আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা মহাশয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। জনসেবাই রাজনীতির সর্বোচ্চ উদাহরণ। সেই আদর্শকে সম্মান করে আগামী দিনে প্রতিটি নাগরিক আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য
নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ও জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। বরাক উপত্যকা থেকে কৌশিক রায় ও কৃষ্ণেন্দু পাল। বোড়ো সম্প্রদায় থেকে চরণ বড়ো ও বিশ্বজিৎ দৈমারী। মিসিং সম্প্রদায় থেকে রনোজ পেগু, কোচ-রাজবংশী সম্প্রদায় থেকে অশ্বিনী রায় সরকার এবং আহোম সম্প্রদায় থেকে সুশান্ত বড়গোহাঁই। ভৌগোলিকভাবে মন্ত্রিসভায় উচ্চ অসম, নিম্ন অসম, মধ্য অসম, উত্তর অসম ও বরাক উপত্যকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।













