,

১৭ মে শিলচরে “১৯-এর মহাপথচলা”: ভাষা শহীদদের স্মরণে ঐক্যের ডাক, সর্বস্তরের মানুষকে ব্যানারসহ অংশ নেওয়ার আহ্বান

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে আগামী ১৭ মে, রবিবার বিকাল ৪টায় শিলচরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী “১৯-এর মহাপথচলা”। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাপথচলা রাঙ্গিরখাড়ি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ময়দানে। শহীদের রক্তে লেখা ইতিহাস ১৯৬১ সালের ১৯ মে মাতৃভাষা বাংলার সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে শিলচর রেলস্টেশনে সত্যাগ্রহরত…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে আগামী ১৭ মে, রবিবার বিকাল ৪টায় শিলচরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী “১৯-এর মহাপথচলা”। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাপথচলা রাঙ্গিরখাড়ি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ময়দানে।

শহীদের রক্তে লেখা ইতিহাস
১৯৬১ সালের ১৯ মে মাতৃভাষা বাংলার সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে শিলচর রেলস্টেশনে সত্যাগ্রহরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন ভাষা সেনানী। কমলা ভট্টাচার্য, শচীন্দ্র পাল, কানাইলাল নিয়োগী, চন্ডীচরণ সূত্রধর-সহ সেই ১১ শহীদের আত্মবলিদান বরাক উপত্যকার ভাষা ও আত্মপরিচয়ের আন্দোলনকে চিরকালের জন্য অমর করে রেখেছে। তাঁদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর এই দিনটিকে ঘিরে আয়োজিত হয় “১৯-এর মহাপথচলা”।

সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান
এই মহতী কর্মসূচিকে সফল করতে বরাক উপত্যকার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্রীড়া সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, এনজিও, কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-যুব সমাজ, ব্যবসায়ী মহল, বিভিন্ন ভাষিক জনগোষ্ঠী এবং সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি সংগঠনকে নিজস্ব ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডসহ দলে দলে মহাপথচলায় যোগ দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই আয়োজনকে গণ-আন্দোলনের রূপ দেবে।

ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয়কুমার রায় বলেন, “বরাক উপত্যকা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি সম্প্রীতি ও বহুত্বের মিলনক্ষেত্র। ১৯-এর মহাপথচলা কোনও একটি ভাষা বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সকল বরাকবাসীর। জাতি-ধর্ম-ভাষা নির্বিশেষে সকল ভাষাভাষী মানুষের ঐক্য ও সৌভ্রাতৃত্বই এই মহাপথচলার মূল শক্তি।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভাষা শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি সম্মানজনক, অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ বরাক। তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণের শপথ নিতেই আমরা প্রতি বছর পথে নামি।”

প্রস্তুতি তুঙ্গে
ইতিমধ্যেই মহাপথচলাকে কেন্দ্র করে শিলচর শহর জুড়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে অংশগ্রহণের রূপরেখা চূড়ান্ত করছে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা যাতে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন, তার জন্য বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও উপস্থিতি এবারের “১৯-এর মহাপথচলা”কে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক করে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *