,

শিলচর ডুবছে কাদা-জ্যামে: বরাদ্দ অর্থ কোথায়? পথচারীর নিস্তার কবে?

ভাঙা রাস্তা, দখল হওয়া ফুটপাত, গাড়ি পার্কিং — কাদা ছিটে নোংরা হচ্ছে পথচারীদের কাপড় বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, শিলচর: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শিলচর শহর। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী। হাসপাতাল রোড, সেন্ট্রাল রোড, প্রেমতলা সহ শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রায় সবকটি রাস্তাই এখন কাদা, গর্ত ও জ্যামের কবলে। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তা হাসপাতাল রোড। একদিকে জেলা…

ভাঙা রাস্তা, দখল হওয়া ফুটপাত, গাড়ি পার্কিং — কাদা ছিটে নোংরা হচ্ছে পথচারীদের কাপড়

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, শিলচর: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শিলচর শহর। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী। হাসপাতাল রোড, সেন্ট্রাল রোড, প্রেমতলা সহ শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রায় সবকটি রাস্তাই এখন কাদা, গর্ত ও জ্যামের কবলে। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তা হাসপাতাল রোড। একদিকে জেলা সদর হাসপাতাল, অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসালয় ও ওষুধের বাজার। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স এই রাস্তা ব্যবহার করে। অথচ বর্তমানে পুরো রাস্তা জুড়ে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেই গর্তেই জমেছে হাঁটু সমান কাদা-জল। গাড়ি চলাচল করার সময় সেই নোংরা কাদা-জল ছিটকে পড়ছে পথচারীদের গায়ে। অফিস যাত্রী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, মহিলাদের পরনের কাপড় নোংরা জলে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। পথচারী যেখানে পৌঁছানোর কথা সেখানে সময় মতো পৌঁছতে পারছেন না এই নোংরা হয়ে যাওয়া কাপড়ের জন্য। বাধ্য হয়ে কাপড় বদলানোর জন্য আবার বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

এইটা এখন শহরবাসীর নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার দু’পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে ব্যবসায়ীরা। পথচারীরা হাঁটার জায়গা পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে কাদার মধ্য দিয়েই রাস্তা দিয়ে চলতে হচ্ছে। তার উপর রাস্তার একপাশ দখল করে রেখেছে বেসরকারি গাড়ি ও অটোর পার্কিং। ফলে সরু রাস্তা আরও সরু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই যানজট লেগে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। স্কুটার, অটোরিকশা, ঠেলাগাড়ি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিনই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন মহিলা, বৃদ্ধ ও ছাত্ররা। সবচেয়ে লজ্জার বিষয়, এই বেহাল রাস্তা থেকে কয়েক মিটার এগোলেই রয়েছে এলাকার বিধায়কের বাড়ি। জনপ্রতিনিধির বাসভবনের এত কাছে শহরের প্রধান রাস্তার এই অবস্থা। হাসপাতাল রোডের মতোই সেন্ট্রাল রোডের অবস্থা। গর্তে জল জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। ফুটপাত দখল থাকায় স্কুল-কলেজের ছাত্ররা রাস্তার মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রেমতলা এলাকার রাস্তাতেও একই ছবি। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জল-কাদায় ভরে যায়। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, কাদার কারণে ক্রেতা নেই। দোকানের সামনে জমা জলে মশার উপদ্রব বেড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ কাদার মধ্যেই দাঁড়িয়ে দড়ি ও বাধা দিয়ে যান চলাচল সামাল দিচ্ছেন। তবুও প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান রাস্তার এই দশায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন রোগী ও তাদের পরিজনেরা। রোগীবাহী গাড়ি কাদায় আটকে যাচ্ছে।

জরুরি রোগীকে সময় মতো হাসপাতালে নিতে পারছেন না স্বজনরা। রাস্তার এই দুরবস্থা নিয়ে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। তাদের তীব্র ক্ষোভ সরকার, প্রশাসন, কনট্রেকটার ও দখলদারদের উপর। এক বাসিন্দার কড়া প্রশ্ন, সরকার থেকে অর্থ বরাদ্দ হয়। সেই অর্থ যায় কোথায়? প্রতিবছর রাস্তা সারাইয়ের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু ২ মাসও টেকে না। আরেকজনের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করিয়ে কনট্রেকটার কিভাবে টাকা পায়? কাজের তদারকি করে কে? নাকি সবাই মিলে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়? ফুটপাত দখল নিয়ে আরেকজনের প্রশ্ন, প্রশাসন দেখেও দেখে না কেন? রাস্তার একপাশ পার্কিং, অন্যপাশ দোকান। সাধারণ মানুষ যাবে কোথা দিয়ে? এই দুর্ভোগ থেকে পথচারী কবে নিস্তার পাবে? ভোটের সময় নেতারা বাড়ি বাড়ি এসে সব করে দেবেন বলেন। ভোট আদায় করে নদী পার হলেই আর জনগণের কথা মনে থাকে না। আজ যদি মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীরা আসেন, দেখবেন রাতারাতি রাস্তায় প্রলেপ পড়ে যাবে। কয়েক ঘণ্টার জন্য রাস্তা ঝকঝকে। ওনারা চলে গেলেই আবার আগের কাদা-গর্ত ও জ্যাম। এভাবে জনগণকে ঠকিয়ে সরকার বেশি দিন টিকবে না। নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে বিগত বছরের রাস্তা সারাইয়ের কাজের হিসাব ও তদন্ত হোক। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার একপাশে বেআইনি পার্কিং বন্ধ করতে হবে। লোক দেখানো প্রলেপ নয়। হাসপাতাল রোড, সেন্ট্রাল রোড, প্রেমতলা সহ শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বিজ্ঞানসম্মত ও স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। প্রতিবছর কাজ হবে, প্রতিবছর ভাঙবে — এই প্রহসন আর চলতে দেওয়া যায় না। প্রশাসনের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *