ধেমাজীর ড.বনজিৎ ভট্ট সহ ৪ বিশিষ্টজনকে স্মৃতি পুরস্কার প্রদান
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: আসামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সঙ্গীতগুরু ধেমাজীর ড.বনজিৎ ভট্ট ড.ভূপেন হাজারিকা স্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত হলেন। গত ৪ জুলাই কলকাতার ইন্দুমতী সভাগৃহে সুরনন্দন ভারতী আয়োজিত ড.ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড.বনজিৎ ভট্ট তাঁর দীর্ঘ গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে ভূপেন হাজারিকার জীবন ও সৃষ্টি সম্পর্কে বহু অজানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভূপেন হাজারিকা সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বহুমাত্রিক। তাঁর ব্যক্তিত্ব বহুমুখী ও বহুবর্ণের। তাই তাঁর সৃষ্টিগুলিও অনন্য হয়ে উঠেছে। তাঁর গীতিকবিতা সাধারণ সাহিত্য নয়, তা চির-উজ্জ্বল শিল্প। তাই ভূপেন হাজারিকার গান ও সাহিত্যের নিঃস্বার্থ অনুসন্ধান অসমীয়া গান সাহিত্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং প্রয়োজনীয়।” বক্তব্যের শেষে তিনি “সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ” গানটি পরিবেশন করে উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতি পুরস্কার পান আগরতলার বিশিষ্ট শিল্পী সুদীপ্ত শেখর মিশ্র, আসামের তবলাগুরু পণ্ডিত কল্যাণ ডেকা এবং কলকাতার শিল্পী কমলিনী বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করে সুরপ্রভা একাডেমীর ছাত্রীবৃন্দ। এরপর একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন কমলিনী বড়ুয়া, জবা মুখোপাধ্যায়, অনন্যা চক্রবর্তী, সেজুতি রায় এবং আসামের নওগাঁর শিল্পী বিজয় বিশ্বাস। শিল্পী অনামিকা চন্দ্রের পরিচালনায় বিভাতি-র ছাত্রছাত্রীরা সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে। শিশুশিল্পী অস্মিতা সাহু সিনথেসাইজারে মুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করে। শিল্পী অরিজিতা দাসের আঁকা ড. ভূপেন হাজারিকার প্রতিকৃতি দর্শকদের বিশেষ নজর কাড়ে। নৃত্যশিল্পী শ্রমণা চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নৃত্যাশ্রমের ছাত্রীরা ভূপেন হাজারিকার গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। বিশিষ্ট বাঁশি শিল্পী পণ্ডিত ইন্দ্রজিৎ বসু (আই. পি. এস.) ভূপেন হাজারিকার সুর করা ‘রুদালি’ ছবির একটি গান বাঁশিতে পরিবেশন করেন। এরপর তিনি মল্লার রাগ পরিবেশন করে বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সৌম্যদীপ চক্রবর্তী, পার্থ প্রতিম বোস, শঙ্কর মন্ডল, জয়ন্ত চক্রবর্তী এবং বিধান চন্দ্র রায়।

ভূপেন হাজারিকার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন আসামের তবলাগুরু পণ্ডিত কল্যাণ ডেকা, সুরনন্দন ভারতীর সর্বভারতীয় সভাপতি ঋতীশ রঞ্জন চক্রবর্তী এবং দেবাশিষ সরকার। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ৫৩ বছর ধরে প্রকাশিত ‘রা পত্রিকা’-র ড. ভূপেন হাজারিকা বিশেষ সংখ্যা এবং বিধান চন্দ্র রায়ের লেখা ‘পাষাণে কোমল হৃদয়’ বই দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। বই দুটির উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুকমল দাস। গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।












