বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগের মামলা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আবেদনকারীদের উদ্দেশে বলেন, রাম মন্দিরে অনুদান চুরির বিষয়টি নিয়ে কোনওভাবেই রাজনীতি করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি.মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জানতে চায় বর্তমান বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি-কে পুনর্গঠন করা সম্ভব কি না।
রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে তিনটি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনগুলিতে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের সিএজি অডিট, নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্ত, ফরেন্সিক অডিট এবং ব্যাঙ্ক, ইউপিআই ও ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। সোমবারের শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, মামলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন আপাতত এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তুষার মেহতা আরও জানান, আগের এসআইটি তদন্তে কিছু খামতি ধরা পড়েছে এবং বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশই তদন্ত করছে। এর উত্তরে বেঞ্চ জানতে চায় একজন প্রবীণ আধিকারিকের নেতৃত্বে এসআইটি পুনর্গঠন করা যায় কি না। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কেবল সতর্ক করছি, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেবেন না। তদন্ত নিরপেক্ষ ও যৌক্তিক হতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ জুলাই এবং সেদিনই প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেবে বেঞ্চ।
এদিকে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে নির্মোহী আখড়া। সংগঠনের তরফে মামলা করেছেন মহন্ত রাজা রামচন্দ্রাচার্য। আবেদনে ট্রাস্টের গঠন কাঠামো ও কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্মোহী আখড়ার অভিযোগ, বর্তমান ট্রাস্টের কাজের ধরন প্রাইভেট ট্রাস্টের মতো। তারা ট্রাস্টকে পাবলিক ট্রাস্ট হিসেবে পুনর্গঠন, ট্রাস্টে রামানন্দী বৈরাগী সম্প্রদায়ের সাধু-সন্তদের তদারকির অধিকার এবং সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা চেয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনাই প্রমাণ করে ট্রাস্ট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার অনুদান চুরির অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে প্রচুর সোনা ও রুপোর গয়না। কিন্তু এই বিপুল ধনরাশির একটি বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না। নগদ ও গয়নার পাশাপাশি ভক্তদের দান করা রুপোর ভূষূণ্ডির কাকও নাকি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক সামাল দিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার দ্রুত এসআইটি গঠন করেছে, তবে এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েনি। সূত্রের খবর, রিপোর্টে ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রাই-কে সরাসরি দোষী বলা হয়নি, তবে মন্দির নির্মাণের দায়িত্বে থাকা অনিল মিশ্র-র ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।












