ডিজিটাল জনগণনা ২০২৭-এর প্রস্তুতিতে জোরকদমে কাছাড়

শুরু এনুমারেটর ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ, চার পর্বে প্রশিক্ষিত হবেন ৪৫৩৫ জন জনসংযোগ। শিলচর : ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা ২০২৭-কে সামনে রেখে সোমবার থেকে জোরকদমে শুরু হল কাছাড় জেলার তৃণমূল পর্যায়ের প্রস্তুতি। জেলার পাঁচটি রাজস্ব চক্র শিলচর, লক্ষীপুর, উদারবন্দ, কাটিগড়া ও সোনাই জুড়ে এনুমারেটর এবং সুপারভাইজারদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। কাছাড় জেলা…

শুরু এনুমারেটর ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ, চার পর্বে প্রশিক্ষিত হবেন ৪৫৩৫ জন

জনসংযোগ। শিলচর : ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা ২০২৭-কে সামনে রেখে সোমবার থেকে জোরকদমে শুরু হল কাছাড় জেলার তৃণমূল পর্যায়ের প্রস্তুতি। জেলার পাঁচটি রাজস্ব চক্র শিলচর, লক্ষীপুর, উদারবন্দ, কাটিগড়া ও সোনাই জুড়ে এনুমারেটর এবং সুপারভাইজারদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। কাছাড় জেলা জনগণনা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিসংখ্যানভিত্তিক সমীক্ষার জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে শিলচর রাজস্ব চক্রকে নিয়ে। কাছাড় কলেজে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির জন্য সাতটি পৃথক প্রশিক্ষণ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পর্যায়ে শিলচর রাজস্ব চক্রের মোট ১,১৭১ জন এনুমারেটর এবং ১৮৭ জন সুপারভাইজার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।

জেলার সমস্ত তৃনমুল পর্যায়ের কর্মীদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষিত করতে কর্মসূচিকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায় চলবে ২০ থেকে ২২ জুলাই। দ্বিতীয় পর্যায় ২৪ থেকে ২৭ জুলাই, তৃতীয় পর্যায় ২৯ থেকে ৩১ জুলাই এবং চতুর্থ তথা শেষ পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে ৩ থেকে ৫ আগস্ট। প্রতিদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা প্রশিক্ষণে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানের পাশাপাশি জনগণনার সূচি, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, গৃহতালিকা প্রস্তুতি, তথ্য যাচাই, রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং তৃনমুল পর্যায়ে কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কাছাড়ের জেলা জনগণনা আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত রক্তিম বড়ুয়া, এসিএস। অনুষ্ঠানে জনগণনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে ভাষন দিতে গিয়ে রক্তিম বড়ুয়া বলেন, জনগণনা ২০২৭ দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে, কারণ এই প্রথমবার জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তাঁর কথায়, জনগণনার তথ্যের গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে তৃনমুল পর্যায়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের উপর নির্ভর করে। সেই কারণে এনুমারেটর ও সুপারভাইজারদের ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন এবং কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি জনগণনার সফল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এর আগে স্বাগত ভাষণে শিলচর চার্জ এলাকার জনগণনা চার্জ অফিসার অর্ণব কুমার বড়ুয়া, এ এল আর এস, বলেন, জনগণনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল তৃনমুল পর্যায়ের কর্মীদের প্রস্তুতি, নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধ। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিটি অধিবেশনে মনোযোগ সহকারে অংশগ্রহণ করে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপ ভালোভাবে রপ্ত করার আহ্বান জানান এবং মাঠপর্যায়ে নির্ভুলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন।

প্রশিক্ষণের কারিগরি অধিবেশনগুলি পরিচালনা করছেন প্রশিক্ষিত ফিল্ড ট্রেনাররা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জুন মাসে আয়োজিত দুটি মাস্টার ট্রেনার কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের প্রশিক্ষিত করা হয়। কাছাড় জেলার মোট ৫৭ জন ফিল্ড ট্রেনার মাস্টার ট্রেনার ড. গঙ্গেশ ভট্টাচার্য এবং সুরজিৎ আচার্যের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে তাঁরা এখন জেলার সমস্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের একই মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

এবারের জনগণনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল স্ব-গণনা বা সেলফ-এনুমারেশন ব্যবস্থা। নির্ধারিত অনলাইন জনগণনা পোর্টালের মাধ্যমে আগামী ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নিজেরাই তাঁদের পরিবারের তথ্য আপলোড করতে পারবেন। এরপর ১৭ আগস্ট থেকে এনুমারেটররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাউস লিস্টিং অপারেশন শুরু করবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও সংগ্রহ করবেন।

জনগণনার বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই মোট ৪,৫৩৫ জন এনুমারেটর ও সুপারভাইজার নিয়োগ করেছে। জনগণনা হবে দুই পর্যায়ে। প্রথম পর্যায় ‘হাউস লিস্টিং অপারেশন’ চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায় ‘পপুলেশন এনুমারেশন’ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে সম্ভব সেখানে স্ব-গণনার সুবিধা গ্রহণ করতে এবং বাড়ি পরিদর্শনের সময় এনুমারেটরদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে। প্রশাসনের মতে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই জনগণনার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা নোডাল অফিসার নয়নমণি দত্ত, শিলচর সদর চার্জ অফিসার অর্ণব কুমার বড়ুয়া, এএলআর এস, শিলচর জনগণনা চার্জ এলাকার অতিরিক্ত জনগণনা চার্জ অফিসার কৌস্তভ দাস, কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ, মাস্টার ট্রেনার ড. গঙ্গেশ ভট্টাচার্য, রিসোর্স পার্সন এস. বি. দত্ত চৌধুরী এবং ডিরেক্টরেট অব সেনসাস অপারেশনস, গুয়াহাটি-এর প্রতিনিধি সঞ্জিত মণ্ডল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *