,

রবীন্দ্র-ছবিতে ফের গাঁথা হল মস্কো-শান্তিনিকেতনের সেতু

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। বোলপুর: প্রায় ১০০ বছর পর রবীন্দ্রনাথের তুলি আবার পৌঁছে গেল মস্কোয়। মস্কোর বুকে রবি-প্রদর্শনী: বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন থেকে বাছাই করা ৫৯টি দুষ্প্রাপ্য ছবি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাজধানীর জিইএস-২ হাউস অব কালচারে শুরু হয়েছে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন আ সিঙ্গল নেস্ট: ফলোয়িং দ্য ওয়ে অব টেগোর’। প্রদর্শনী চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। কারা আয়োজক: বিশ্বভারতী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। বোলপুর: প্রায় ১০০ বছর পর রবীন্দ্রনাথের তুলি আবার পৌঁছে গেল মস্কোয়।

মস্কোর বুকে রবি-প্রদর্শনী: বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন থেকে বাছাই করা ৫৯টি দুষ্প্রাপ্য ছবি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাজধানীর জিইএস-২ হাউস অব কালচারে শুরু হয়েছে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন আ সিঙ্গল নেস্ট: ফলোয়িং দ্য ওয়ে অব টেগোর’। প্রদর্শনী চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত।

কারা আয়োজক: বিশ্বভারতী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক, ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্ট ও মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন। উদ্বোধনে হাজির ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ, দু’দেশের শিল্পী, গবেষক ও সংস্কৃতি জগতের মুখ।

ছবিতে রবীন্দ্রনাথের অন্তর্জগৎ: প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবিই রবীন্দ্রভবনের অমূল্য সংগ্রহ। মানুষের মুখ, মুখোশ, পাখি, অচেনা জীব, প্রকৃতি আর বিমূর্ত রেখার মিশেলে ধরা পড়েছে কবির শিল্পী-সত্তা। জলরং, কালি, কলম ও তুলির ব্যবহারে তিনি বাস্তবকে হুবহু আঁকেননি, এঁকেছেন নিজের ভাবনা, কল্পনা আর আত্ম-অন্বেষণের মানচিত্র।

১৯৩০ থেকে ২০২৬: ১৯৩০ সালে মস্কোয় রবীন্দ্রনাথের ছবি দেখতে উপচে পড়েছিল ভিড়। সে-বার তিনি স্কুল, লাইব্রেরি, মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন এবং শ্রীনিকেতনের কর্মীদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে শিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আজও সচল। এখনও গবেষণা, অনুবাদ, শিল্পচর্চা আর শিক্ষা-বিনিময় চলছে দু’দেশের মধ্যে।

যুদ্ধের সময়ে শান্তির রং: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে দাঁড়িয়ে এই প্রদর্শনী হয়ে উঠেছে শিল্প ও মানবতার প্রতীক। ভারত-রাশিয়া প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নেও হাত মিলিয়েছে। নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশন ও রাশিয়ার সিরিয়াস এডুকেশনাল সেন্টারের যৌথ কাজ তারই প্রমাণ।

নতুন অধ্যায়ের সূচনা: ফলে মস্কোয় রবীন্দ্র-চিত্রের এই ফিরে আসা নিছক প্রদর্শনী নয়। এক শতক ধরে গড়ে ওঠা ভারত-রাশিয়া মৈত্রীর নতুন অধ্যায়, যেখানে কবির মানবতাবাদ আবার দুই দেশকে সংলাপের টেবিলে বসাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *