বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসম সরকার চা ও প্ল্যান্টেশন শ্রেণির জমিকে কৃষক রেজিস্ট্রি পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করায় রাজ্যের ক্ষুদ্র চা চাষিদের জন্য এটি ‘গেম-চেঞ্জিং’ পদক্ষেপ হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
ফার্মার আইডি ও সরাসরি সুবিধা: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২৬ জুন এই সুবিধা চালু হওয়ায় ক্ষুদ্র চা চাষিরা ফার্মার আইডি পাবেন। এর মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্মেই সময়মতো প্রয়োজনের ভিত্তিতে সার, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও অন্যান্য পরিষেবা মিলবে।
মধ্যস্বত্বভোগী দূর হবে: হিমন্তবিশ্ব শর্মার মতে, এই পদক্ষেপে ক্ষুদ্র চা চাষিরা ভাল শর্তে ঋণ পাবেন এবং চা চাষিদের শোষণকারী মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। তিনি একে চা জনগোষ্ঠীর জন্য বড় অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেন।
শিল্পমহলের প্রতিক্রিয়া: চা শিল্প এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। নর্থ ইস্টার্ন টি অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বিদ্যানন্দ বরকাকতি জানান, সরকারিভাবে অসমে ১,৩৩,৬২৬ জন ক্ষুদ্র চা চাষি থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা দেড় লক্ষের বেশি। গড়ে পরিবারপিছু চার জন ধরলে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে ছয় লক্ষের বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
মোট উৎপাদনের ৫০%: টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বিদ্যানন্দ বরকাকতি বলেন, এই পদক্ষেপ ক্ষুদ্র চা চাষিদের আরও শক্তিশালী করবে। অসমের মোট গ্রিন লিফ উৎপাদনের প্রায় ৫০% এই ক্ষুদ্র চা চাষিরাই জোগান দেন।
কৃষক রেজিস্ট্রি পোর্টাল কী: কৃষক রেজিস্ট্রি পোর্টাল হল সরকারি কৃষি বিভাগের তৈরি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেস। এখানে প্রত্যেক কৃষকের জন্য যাচাইকৃত ফার্মার আইডি বা ইউনিক ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হয়। কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য, আধার ও জমির রেকর্ড এতে যুক্ত থাকে।
কাগজপত্রের ঝামেলা শেষ: একবার নিবন্ধিত হলে সরকারি সুবিধার জন্য বারবার পরিচয় বা জমির মালিকানার কাগজ জমা দিতে হবে না। এই রেজিস্ট্রি জমির রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় কৃষকরা অনলাইনে নিজের জমির তথ্য দেখতে, আপডেট করতে ও মৌসুমি ফসলের সমীক্ষা লগ করতে পারবেন।
সরাসরি ভর্তুকি নিশ্চিত: কৃষি বিভাগের এক আধিকারিক জানান, স্বচ্ছ ও যাচাইকৃত ডেটাবেস তৈরির ফলে সরকার সরাসরি যোগ্য কৃষকের কাছে আর্থিক সাহায্য, সারের ভর্তুকি ও অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবে। ফলে মাঝপথে কোনও ফাঁকফোকর থাকবে না।












