,

‘ধাম’ বিতর্কের অবসান, দিঘার মন্দির এখন ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’

বিশেষ প্রতিবেদন: দিঘার সমুদ্রতীরে নতুন জগন্নাথ মন্দির তৈরি হতেই ওড়িশা-বাংলার মধ্যে ধর্মীয় মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল মন্দিরের নাম। সনাতন রীতিতে পুরী, দ্বারকা, বদ্রীনাথ, রামেশ্বরম এই চারটিই ‘চার ধাম’ হিসেবে যুগ যুগ ধরে পূজিত। তাই ২০২৫ সালে দিঘার মন্দিরের নাম ‘জগন্নাথ ধাম’ রাখা হলে ওড়িশার সাড়ে ৪ কোটি মানুষের আবেগে আঘাত লাগে।…

বিশেষ প্রতিবেদন: দিঘার সমুদ্রতীরে নতুন জগন্নাথ মন্দির তৈরি হতেই ওড়িশা-বাংলার মধ্যে ধর্মীয় মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল মন্দিরের নাম। সনাতন রীতিতে পুরী, দ্বারকা, বদ্রীনাথ, রামেশ্বরম এই চারটিই ‘চার ধাম’ হিসেবে যুগ যুগ ধরে পূজিত। তাই ২০২৫ সালে দিঘার মন্দিরের নাম ‘জগন্নাথ ধাম’ রাখা হলে ওড়িশার সাড়ে ৪ কোটি মানুষের আবেগে আঘাত লাগে। ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। বিতর্ক মেটাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মন্দিরের নাম বদলে ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ করে। ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে কমপ্লেক্সটিকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে মন্দিরের ভিতরে জগন্নাথদেবের নিত্যপুজো, ভোগ নিবেদন, আরতি সবই আগের নিয়ম মেনে চলছে। সম্প্রতি পুরীর সাংসদ সম্বিৎ পাত্র ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে নবান্নে আসেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি তুলে দেন এবং পুরীর জগন্নাথ ধামের প্রতীকী মূর্তি উপহার দেন। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে মা কালীর মূর্তি দিয়ে সৌজন্য জানান। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দিঘার এই কমপ্লেক্স ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামেই থাকবে। ভিতরের মন্দির অংশে ভক্তরা জগন্নাথদেবের পুজো করবেন রীতি মেনে, ট্রাস্ট কমিটি সেই ব্যবস্থা দেখবে। দুই রাজ্যের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন অটুট রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। যত মন্দির হবে তত মঙ্গল, কিন্তু আদি শঙ্করাচার্যের দেখানো চার ধামের মর্যাদাও সমানভাবে রক্ষা করতে হবে – এই বার্তাই দুই রাজ্যের আলোচনার মূল সুর ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *