,

দশের মধ্যে আসার লক্ষ্য, দায়িত্ব নিয়েই অসমের শিক্ষা নিয়ে রোডম্যাপ দিলেন মন্ত্রী ড.রণোজ পেগু

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : দ্বিতীয় দফায় শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব বুঝে নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী ড.রণোজ পেগু। শিক্ষার মান আর স্বচ্ছতার বিচারে অসমকে দেশের সেরা দশ রাজ্যের সারিতে নিয়ে যাওয়াই এবার সরকারের লক্ষ্য। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের পারদর্শিতা মূল্যায়ন সূচকে অসম ইতিমধ্যেই লাফ দিয়ে পনেরো ধাপ এগিয়েছে। আগে যে রাজ্য ছিল সাতাশ নম্বরে, এখন তার…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : দ্বিতীয় দফায় শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব বুঝে নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী ড.রণোজ পেগু। শিক্ষার মান আর স্বচ্ছতার বিচারে অসমকে দেশের সেরা দশ রাজ্যের সারিতে নিয়ে যাওয়াই এবার সরকারের লক্ষ্য। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের পারদর্শিতা মূল্যায়ন সূচকে অসম ইতিমধ্যেই লাফ দিয়ে পনেরো ধাপ এগিয়েছে। আগে যে রাজ্য ছিল সাতাশ নম্বরে, এখন তার অবস্থান বারোতে। আগামী বছর বা তার পরের বছরেই এই তালিকায় অসমকে দশের মধ্যে দেখতে চায় সরকার, সেই মতো সব দিক থেকে কাজ শুরু হবে। আজ উচ্চ শিক্ষা ও বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের কর্তা-আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ পর্যালোচনা বৈঠকের পর ভবিষ্যতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তাঁর কথায়, শিক্ষার গুণগত মান, ছেলে-মেয়ের সমান সুযোগ, স্কুল-কলেজের পরিচালনা ব্যবস্থা – এই তিনটি মাপকাঠিতেই রাজ্যের পারদর্শিতা ঠিক হবে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় বদল এনেছে শিক্ষাসেতু প্রয়োগ। মন্ত্রীর দাবি, এই প্রয়োগ চালু হওয়ার পর রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক লাভবান হয়েছে। পঞ্চাশ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর গোটা তথ্যভাণ্ডার এখন এই প্রয়োগেই আছে। সেখান থেকেই পাঠ্যবই ঠিকমতো পৌঁছেছে কিনা, মধ্যাহ্ন ভোজনের কী অবস্থা, পোশাকের চাহিদা কেমন – সবকিছু এক নজরে দেখে নেওয়া যাচ্ছে। সরকারি স্কুলের সামগ্রিক ছবিটাও স্পষ্ট হচ্ছে গুণোৎসবের হাত ধরে। এবার ভোটের জন্য গুণোৎসব না হলেও দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ সালে তা আবার হবে, বাজেটও ইতিমধ্যে ঠিক করে ফেলেছে সরকার। শিক্ষক বদলি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োগের মাধ্যমে বদলির আবেদন জমা নেওয়ার কাজ শেষ।

এবার বোঝাপড়া বদলি হবে, নাকি একক বদলি – সেই নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। লোকসভা ভোটের জন্য বদলিতে জটিলতা আসতে পারে, তাই উপযুক্ত শিক্ষকদের জুলাই মাসের মধ্যেই বদলি করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু আছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মুখ্যমন্ত্রী ও সাধারণ প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা সেরে নেবেন তিনি। আজ সমগ্র শিক্ষার কার্যনির্বাহী কর্তা, বিশেষ কর্তব্যরত আধিকারিক ও প্রকল্প আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মন্ত্রী। দিনের শেষে অসম রাজ্যিক বিদ্যালয় শিক্ষা পরিষদের দফতরে গিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নতুন করে তৈরি সাধারণ অধ্যয়ন বিষয়ের ইংরেজি ও অসমীয়া পাঠ্যবই দুটি প্রকাশ করেন ডাক্তার পেগু। নতুন শিক্ষানীতির ভাবনা মাথায় রেখেই বই দুটি তৈরি হয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান রমেশ চান্দ জৈন উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। পরে পরিষদের কাজকর্ম নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করে শিক্ষা, প্রশাসন ও পরীক্ষা সংক্রান্ত সব বিষয়ের হালহকিকত জানেন মন্ত্রী। আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও বাড়াতে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কথা ভেবে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেগুলি যাতে আরও ভালোভাবে করা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশও দেন তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *