বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা : জুলাই মাসেই দ্বিতীয় বার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১৮ ও ১৯ জুলাই এই দু’দিনের সফরে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দুই ধরনের কর্মসূচিই থাকছে তাঁর। রাজ্য সরকার বা বিজেপির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে সফরসূচি জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে যা খবর, এই সফরের মূল আকর্ষণ হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। একই সঙ্গে রাজ্য বিজেপির নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন তিনি।
সাঁকরাইলে আমুলের মেগা প্রকল্প:
সাঁকরাইলে অত্যাধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা ও দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চলেছে গুজরাতের আমুল সংস্থা। সংস্থার তরফে দাবি করা হচ্ছে, এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানা। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নিজের রাজ্য গুজরাতই আমুলের জন্মভূমি। এতদিন মূলত পশ্চিম ভারতে কারবার থাকলেও এখন পূর্ব ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থা। আর সেই জন্য প্রথম বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকেই বেছে নিয়েছে আমুল।
বিজেপির বক্তব্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের ভাবমূর্তি বদলেছে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেই এত দ্রুত এত বড় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আসছে। শাহ নিজে এসে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করে বুঝিয়ে দেবেন পশ্চিমবঙ্গে আমুল কত বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-এর।
কারখানার ক্ষমতা ও সুবিধা:
প্রস্তাবিত এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু দই নয়, এখানে মিষ্টি দই, লস্যি, পনির, মাখন, ঘি ও আইসক্রিমও তৈরি হবে। প্রকল্প চালু হলে সরাসরি ও পরোক্ষ ভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
এই জায়গা বাছাইয়ের পিছনে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় ভূমিকা নিয়েছে। ১৬ ও ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের মাধ্যমে সাঁকরাইল পূর্ব ভারতের সব রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। কাছেই রেলপথ ও কলকাতা বন্দর রয়েছে। ফলে ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, বিহার ও উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে এখান থেকে খুব সহজে পণ্য সরবরাহ করা যাবে।
সাংগঠনিক কর্মসূচি:
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৯ জুলাই মূলত দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকবেন অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রের খবর, সেদিন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যের বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়েও আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯ তারিখ বিকেলেই তাঁর দিল্লি ফেরার কথা থাকায় সমস্ত সাংগঠনিক কর্মসূচি সকালের মধ্যেই সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।












