কাছাড়ে ‘লোক কল্যাণ দিবস’ পালন, জনসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই সরকারি কর্মচারীকে ‘লোক সেবা পুরস্কার’ প্রদান
জনসংযোগ। শিলচর : লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ যদি অসমকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নিতেন, তবে আজ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত ভারতের মানচিত্রের অংশ হয়ে থাকত না। বুধবার কাছাড়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা-স্তরের ‘লোক কল্যাণ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা।
ভারতরত্ন লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈয়ের ৭৬তম প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা বলেন, স্বাধীনতার পর অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্ব জাতির ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসমের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করেছিল। তিনি বলেন, অসমকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বরদলৈয়ের দৃঢ় অবস্থানের ফলেই উত্তর-পূর্ব ভারত ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়ে যায়। দীর্ঘদিন তাঁর অবদান যথাযথ স্বীকৃতি না পেলেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৯৯ সালে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করে। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন অসম সরকার তাঁর প্রয়াণদিবসকে ‘লোক কল্যাণ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে তাঁর আদর্শ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা-স্তরের এই অনুষ্ঠানে জনসেবায় নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও সততার স্বীকৃতিস্বরূপ দুই সরকারি কর্মচারীকে ‘লোক সেবা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কাছাড় জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের জুনিয়র ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুজয়বীর দেব এবং যুগ্ম স্বাস্থ্য পরিষেবা সঞ্চালকের কার্যালয়ের স্টাফ নার্স শান্তিলতা টপনো। অসম সরকারের প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রদান করা হয়। এর সঙ্গে রয়েছে ২৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ, একটি প্রশংসাপত্র এবং অবসর গ্রহণের পর এক বছরের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি।
এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএএস বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বহু সরকারি কর্মচারীর আন্তরিক কাজ প্রায়ই প্রচারের আলোয় আসে না। জেলা প্রশাসনের সাফল্যের জন্য সাধারণত প্রশাসন প্রশংসিত হলেও, সেই সাফল্যের নেপথ্যে কর্মরত অধস্তন কর্মীদের অবদান খুব কমই প্রকাশ্যে স্বীকৃতি পায়। ‘লোক সেবা পুরস্কার’ সেইসব যোগ্য কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান কর্মজীবনের প্রাপ্য সম্মান প্রদান করে। লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈকে স্মরণ করে তিনি সরকারি কর্মচারীদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সহকারী আয়ুক্ত দীক্ষা সরকার, এসিএস স্বাগত ভাষণে বলেন, ‘লোক কল্যাণ দিবস’ হল লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈয়ের নিঃস্বার্থ জনসেবার আদর্শকে স্মরণ করার এবং স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গঠনে সরকারি কর্মচারীদের অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
অনুষ্ঠানে জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত জাগৃতি কালওয়ার, এসিএস, মনোজ্যোতি কুটুম, এসিএস-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈয়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘লোক সেবা পুরস্কার’-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনোজ্যোতি কুটুম, এসিএস বলেন, এই সম্মান সেইসব কর্মীদের স্বীকৃতি দেয়, যারা শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং অন্যদেরও জনসেবায় উৎকর্ষ অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। এই ধরনের স্বীকৃতি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং জনসাধারণের প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করে।

সম্মান গ্রহণ করে সুজয়বীর দেব অসম সরকার, জেলা প্রশাসন এবং তাঁর সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শান্তিলতা টপনো সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, অসম সরকার এবং তাঁর সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈয়ের জীবন, স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অবদান এবং অসমের স্বার্থরক্ষায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। শেষে সহকারী আয়ুক্ত দীক্ষা সরকার, এসিএস ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি, আধিকারিক ও কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈয়ের সততা, নিষ্ঠা ও জনসেবার আদর্শ অনুসরণ করার জন্য সকল সরকারি কর্মচারীর প্রতি আহ্বান জানান।












