জনসংযোগ। শিলচর: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তিরঙ্গার রঙে সেজে উঠছে কাছাড় জেলা। দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং নাগরিক দায়িত্বের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘প্রতিটি ঘরে তিরঙ্গা’ অভিযানকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। একইসঙ্গে ১৪ আগস্ট যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’।
মঙ্গলবার জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের পুরনো সভাকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কাছাড়ের নবনিযুক্ত জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা।
জেলা আয়ুক্ত জানান, স্বাধীনতার আবহকে আরও জনমুখী করতে স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে যুবসমাজ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, নাগরিক সংগঠন ও সরকারি কর্মী সকলকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণেই ‘প্রতিটি ঘরে তিরঙ্গা’ প্রকৃত অর্থে জনউৎসবে পরিণত হবে।”
ইতিমধ্যে যা হয়েছে:
৯ আগস্ট জেলা পুলিশ ও পরিবহণ দফতরের যৌথ উদ্যোগে শিলচরের বিভিন্ন পথে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তিরঙ্গা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা’।
১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত:
জেলার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে ছবি আঁকা, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। শিক্ষা দফতরের পাশাপাশি জাতীয় ছাত্রবাহিনী ও জাতীয় সমাজসেবা প্রকল্পের সহযোগিতায় বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে। ১৪ আগস্ট গান্ধী ভবনে হবে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। একই সঙ্গে সরকারি দফতর, বাজার ও জনবহুল এলাকায় চলছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
আগামী কর্মসূচি:
১২ আগস্ট বিকেল ৫টায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা শিলচর থেকে শুরু হবে ‘তিরঙ্গা শোভাযাত্রা’। শোভাযাত্রাটি গান্ধী উদ্যান পর্যন্ত যাবে। সেখানে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম্’।
১২ ও ১৩ আগস্ট বিভিন্ন উন্নয়ন খণ্ডে আয়োজন করা হবে প্রভাত ফেরি ও শোভাযাত্রা। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে তিরঙ্গা বিক্রয় কেন্দ্রও বসবে।
১৩ আগস্ট জেলার সব বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় ও খণ্ড উন্নয়ন কার্যালয়ে একযোগে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম্’।
১৪ আগস্ট স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে আয়োজন করা হবে রক্তদান শিবির। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জেলা ক্রীড়া সংস্থা প্রাঙ্গণ থেকে বের হবে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’-এর মোমবাতি মিছিল। দেশভাগের সময় যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
জেলা আয়ুক্ত কাছাড়বাসীর কাছে আবেদন জানান, “স্বাধীনতার এই উৎসবে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিন এবং গর্বের সঙ্গে ঘরে ঘরে তিরঙ্গা উত্তোলন করুন। ‘প্রতিটি ঘরে তিরঙ্গা’ যেন শুধু কর্মসূচি না থেকে ভারতের ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক চেতনার সম্মিলিত উদযাপন হয়ে ওঠে।”
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ দফতর, জাতীয় ছাত্রবাহিনী, জাতীয় সমাজসেবা প্রকল্প, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এই কর্মসূচি সফল করতে একসঙ্গে কাজ করছে।












