বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন : অরুণোদয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাস ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রাজ্যের লক্ষ মহিলা। অবশেষে তাঁদের মুখে হাসি ফোটালেন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
বৃহস্পতিবার নিজের কার্যালয় থেকে ফেসবুক লাইভে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ৩ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে ফের চালু হচ্ছে অরুণোদয় প্রকল্প। ওই দিন প্রতিটি পঞ্চায়েতে বিশেষ সভার আয়োজন করা হবে এবং একই সঙ্গে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে।
একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ৬-৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে ‘নিযুত মইনা’ ও ‘নিযুত বাবু’ প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ। সময়সীমার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ফর্ম জমা দিতে হবে। সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এই দুই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য আগস্ট থেকেই রেশন কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে ডাল, চিনি ও লবণ দেওয়া শুরু হবে।
বেকার স্নাতকদের জন্য সুখবর দিয়ে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে আবার শুরু হচ্ছে ‘জীবন প্রেরণা’ প্রকল্প। এর আওতায় স্নাতক পাস করা যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে এক বছর পাবেন। বাজেট না থাকায় কিছুদিন এই প্রকল্প বন্ধ ছিল।
আত্মনির্ভর অসম ও কর্মসংস্থান
‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর-অসম অভিযান’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম কিস্তিতে ১ লক্ষ টাকা পাওয়া ১২,৫০০ জনকে দ্বিতীয় কিস্তির ১ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি ২৫ হাজার জনও এই টাকা পাবেন।
নির্বাচনের আগে ৭৫ হাজার যুবক-যুবতীকে ৭৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের এখন ৩ দিনের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে আরও ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এবারের বাজেটে ৫০ হাজার যুবক-যুবতীকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ বছরই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি ২ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
বন্যা, উন্নয়ন ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধেমাজি ও লখিমপুরে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এখনও কোনো বাঁধ ভাঙেনি। সরকার বন্যাক্রান্তদের পাশে আছে। ভাঙন সমস্যা গুরুতর। বিশেষ করে চাবুয়ার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ১-২ আগস্ট তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।
গুয়াহাটি শহরকে সুন্দর করে তুলতে ২-৩টি উড়ালপুলে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানুষের সাড়া ভালো পেলে রাজ্যের অন্যান্য উড়ালপুলেও এটি করা হবে।
কামাখ্যা করিডর প্রকল্পের কাজও আজ থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এর শিলান্যাস করলেও মামলার কারণে কাজ আটকে ছিল। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া গুয়াহাটি চিড়িয়াখানা, যোরহাটের ফ্রিডম পার্ক, শিবসাগরের রংঘর এবং ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কোচবিহারের মধুপুর সত্র নতুন করে সাজানো হবে।
মিশন বসুন্ধরা-৪
জমির সমস্যা সমাধানে ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে মিশন বসুন্ধরা-৪। জমি সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে সবাই আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য নতুন একটি পোর্টালও চালু হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মরান-মটক জনগোষ্ঠীকেও বনাঞ্চলে জমির অধিকার দিতে সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে।












