বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : কাজিরাঙা অর্কিড ও জৈব-বৈচিত্র্য উদ্যানে জিএসটি ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ তুলে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা ও শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈকে তীব্র আক্রমণ করল অসম রাজ্যিক বিজেপি।
বৃহস্পতিবার দলের রাজ্যিক কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত সংবাদমেলে দলের মুখপাত্র কমল কুমার মেধি বলেন, বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবড়ুয়া যে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন তার সরাসরি উত্তর আজ পর্যন্ত দেননি অখিল গগৈ। বুধবার সংবাদমেল করে তিনি মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি মুখপাত্র।
১২-১৫ কোটি টাকার জিএসটি ফাঁকির অভিযোগ
সংবাদমেলে কমল কুমার মেধি বেশ কয়েকটি নতুন তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক বছরে কাজিরাঙা অর্কিড ও জৈব-বৈচিত্র্য উদ্যানের মোট রাজস্ব প্রায় ১০-১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭-৮ কোটি টাকাই আসে প্রবেশমূল্য থেকে।
“৭-৮ কোটি টাকার উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি অর্থাৎ বছরে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। গত আট বছরে সেই হিসেবে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার জিএসটির হিসাব লুকিয়েছেন অখিল গগৈ,” বলেন শ্রীমেধি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে সংগৃহীত প্রবেশমূল্যের টাকার কোনো হিসাব সমবায় সমিতির বার্ষিক রিপোর্টে দেখানো হয় না। উদ্যানের সংগৃহীত টাকা কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
গত আট বছরে উদ্যানে আসা পর্যটকের সংখ্যা প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন বিজেপি মুখপাত্র।
জমি ও পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন
কমল কুমার মেধির অভিযোগ, উদ্যানের জন্য অনুমোদিত জমি ছিল মাত্র ২৬ বিঘা। কিন্তু এখন সেখানে ১০০ বিঘার বেশি জমি রয়েছে।
কর্মচারীদের বেতন দিতে টাকার অভাব বলে স্ত্রীর কাছ থেকে ধার নেওয়ার কথা বলা অখিল গগৈ নতুন করে ১০০ বিঘা জমি কোথা থেকে কিনলেন সেই উত্তরও চান তিনি।
“যদি না কিনে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত কেউ দান করেছে অথবা উদ্যানের নামে সরকারি জমি দখল করা হয়েছে। কোনটা সত্য তা অসমের মানুষকে জানাতে হবে,” বলেন তিনি।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, কৃষক মুক্তির নামে উদ্যান তৈরি হলেও বর্তমানে ১০ সদস্যের পরিচালনা কমিটির ৪ জনই অখিল গগৈয়ের পরিবারের সদস্য।
“যদি সততা থাকে, তাহলে উদ্যানটি কৃষক মুক্তিকে ফিরিয়ে দিন। সমবায়ের নামে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন,” দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “উদ্যানে বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি প্রদর্শন ভালো উদ্যোগ। কিন্তু কর ফাঁকি দেওয়া অপরাধ।”
শিবসাগরে নগদ টাকা বিতরণের পুরনো অভিযোগ
সংবাদমেলে শিবসাগর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের আগে নামঘরে নামঘরে ১.৫ লাখ টাকা করে নগদ বিতরণের অভিযোগও পুনরায় তোলেন কমল কুমার মেধি।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় এই অভিযোগ আনলেও অখিল গগৈ তার সঠিক উত্তর দেননি বলে অভিযোগ। এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানায় রাজ্যিক বিজেপি।
আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যিক মুখপাত্র প্রাঞ্জল কলিতা এবং মিডিয়া প্যানেলিস্ট কৌশিক পাল দাস উপস্থিত ছিলেন।












