সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরদিন হিমন্ত সরকারের ‘পুশব্যাক’ নীতির তীব্র সমালোচনা রাইজর দল নেতার
বিশেষ প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : সুপ্রিম কোর্ট গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিদেশি ঘোষিত ২৭ জনের মামলার রায় খারিজ করার একদিন পরেই অসমের বিধায়ক অখিল গগৈ বলেছেন, ‘বাংলাদেশি ইস্যু’র সমাধান কোনো ‘পুশব্যাক নাটক’ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। রাইজর দলের সভাপতি এবং শিবসাগর কেন্দ্রের বিধায়ক অখিল গগৈ মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কথিত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাকের বিষয়টিকে সামনে এনে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে জিইয়ে রাখছেন, অথচ তাঁদের ফেরত পাঠানোর জন্য কোনো আইনি কাঠামো তৈরি করেননি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি অ-ইস্যুকে ইস্যু বানাচ্ছেন। অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যায়। অসম সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেনি এবং নথিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতিবেশী দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কোনো আইনি ব্যবস্থাও তৈরি করেনি।” অখিল গগৈ বলেন, “পুশব্যাক নাটক” হল বিজেপির প্রিয় অপটিক্স ছাড়া আর কিছুই নয়। “অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা, কিন্তু এই সরকারের পুশব্যাক কৌশল আইনি বৈধতা ছাড়া অর্থহীন,” বলেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করে এই সংবেদনশীল বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে। “ভারতের মর্যাদা অনুযায়ী আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে বাংলাদেশ অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য আটক তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়,” বলেন অখিল গগৈ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট গুয়াহাটি হাইকোর্টের একগুচ্ছ রায় খারিজ করে দেয়। ওই রায়গুলিতে বিভিন্ন বিদেশি ট্রাইব্যুনালের ২৭ জন আবেদনকারীকে বিদেশি ঘোষণা করার আদেশ বহাল রাখা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত মামলাগুলি নতুন করে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আধা-বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালগুলিতে ফেরত পাঠিয়েছে। জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের” পুশব্যাক জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রয়োজন নেই। নতুন নীতি কাঠামোর অধীনে গত কয়েক মাসে অসমে অবৈধভাবে বসবাসকারী ২,০০০-এর বেশি বিদেশিকে পুশব্যাক করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ১৯৫০ সালের Immigrants (Expulsion from Assam) Act পুনরুজ্জীবিত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর চালু করায় এই পুশব্যাক অভিযান সম্ভব হয়েছে। নতুন নিয়মে জেলা কমিশনাররা সন্দেহভাজন বিদেশিদের ১০ দিনের মধ্যে রাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করা হবে। “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছি না এবং আমাদের প্রয়োজনও নেই। বিদেশিদের শুধু পুশব্যাক করাই হবে বিদেশিদের মোকাবিলার নতুন উপায়,” বলে আগামী পাঁচ বছরে এই ধরনের মানুষের সনাক্তকরণ ও বহিষ্কার জোরদার করার সরকারের সংকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি। গত কয়েক মাসে অসমকে বাংলাদেশের সীমান্তের অন্তত তিনটি অংশ দিয়ে পুশব্যাক করা বেশ কয়েকজন “বাংলাদেশি নাগরিককে” ফেরত নিতে হয়েছে বলেও খবর।












