জেলার প্রবেশপথে ২৩৫০টি গাড়ি পরীক্ষা, ৩৮২টি চালান ইস্যু,অতিরিক্ত বোঝাই ও পারমিট অনিয়মে কড়া পদক্ষেপ
জনসংযোগ। শিলচর: কাছাড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলা টাস্ক ফোর্সের পরিচালিত সমন্বিত এনফোর্সমেন্ট অভিযানে গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত মোট ১১,১১,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জেলা শাসক, কাছাড়ের নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসন, পরিবহন বিভাগ, পুলিশ, আবগারি বিভাগ এবং বন বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে এই জেলা-ব্যাপী অভিযান পরিচালিত হয়। লায়লাপুর, কালাইন, রংপুর, বড়খলা এবং জিরিঘাট-সহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবহন সংক্রান্ত বিধি মেনে চলা এবং অবৈধ পরিবহন রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও প্রধান সড়ক করিডোরগুলিতে প্রায় ২,৩৫০টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়।
গত ২ জুলাই কাছাড় জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান শুরু হয়। বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য, গণবণ্টন, ভোক্তা বিষয়ক ও সমবায় এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী কৌশিক রায় এবং কাছাড়ের অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। বৈঠকে সড়ক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক যানবাহনের অতিরিক্ত বোঝাই, অবৈধ পরিবহন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সমগ্র জেলায় পরিবহন সংক্রান্ত আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা বৈঠকে দুই মন্ত্রী কাছাড় জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন যে, জেলার প্রধান প্রবেশপথগুলিতে নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনার জন্য পৃথক যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত বোঝাই বাণিজ্যিক যানবাহন, পারমিট সংক্রান্ত অনিয়ম, অবৈধ পরিবহন এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
জেলা পরিবহন আধিকারিকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কাছাড় জেলায় মোট ৩৮২টি চালান ইস্যু করা হয়েছে। মোটরযান আইনের আওতায় বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল ও কর্তৃপক্ষের আইনানুগ নির্দেশ অমান্য করা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, দুই চাকার যানবাহনে দু’জনের বেশি আরোহী বহন করা, বৈধ বিমা ছাড়া গাড়ি চালানো, ফিটনেস সার্টিফিকেট বা বৈধ পারমিট ছাড়া যানবাহন পরিচালনা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর প্রদানের রসিদ এবং পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট প্রদর্শনে ব্যর্থতা, পণ্যবাহী যানবাহনে অতিরিক্ত বোঝাই, দূষণ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন, বাধ্যতামূলক রিফ্লেক্টর না থাকা এবং অনুমোদনহীন কাঠামোগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিভাগের আধিকারিকরা জানান, এই সমন্বিত এনফোর্সমেন্ট অভিযানের ফলে বিশেষ করে জেলার প্রধান সড়কপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক যানবাহনের চালক ও পরিবহন সংস্থাগুলির মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি মেনে চলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আধিকারিকরা আরও জানান, আগামী সপ্তাহগুলিতেও কাছাড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের যৌথ এনফোর্সমেন্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁরা সমস্ত মোটরচালক, পরিবহন সংস্থা এবং বাণিজ্যিক যানবাহনের মালিকদের মোটরযান আইনের বিধান কঠোরভাবে মেনে চলা, বৈধ নথিপত্র সংরক্ষণ, অতিরিক্ত বোঝাই এড়িয়ে চলা এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান।












