,

বাঙালি – বিহারী – মারোয়ারীদের লোকগণনায় মাতৃভাষা ‘অসমীয়া’ বলে লিখতে আহ্বান হিন্দু সুরক্ষা সেনা, অসমের

নিজস্ব প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : অসমে বসবাসকারী সকল বহিরাগত হিন্দুকে আসন্ন লোকগণনায় নিজের মাতৃভাষা ‘অসমীয়া’ বলে লিখতে আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রবাদী ভাবাপন্ন জাতীয় সংগঠন হিন্দু সুরক্ষা সেনা, অসম। আজ এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে এই আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাঞ্চন নাথ এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকাশ শইকীয়া বলেন, এর অন্যথা হলে রাজ্য হিন্দু ঐক্যের এক বিরল…

নিজস্ব প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : অসমে বসবাসকারী সকল বহিরাগত হিন্দুকে আসন্ন লোকগণনায় নিজের মাতৃভাষা ‘অসমীয়া’ বলে লিখতে আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রবাদী ভাবাপন্ন জাতীয় সংগঠন হিন্দু সুরক্ষা সেনা, অসম।

আজ এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে এই আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাঞ্চন নাথ এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকাশ শইকীয়া বলেন, এর অন্যথা হলে রাজ্য হিন্দু ঐক্যের এক বিরল সুযোগ হারাবে।

বিবৃতিতে নাথ ও শইকীয়া বলেন, নিজের ভাষিক পরিচয় নিয়ে অসমীয়ারা সবসময়ই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং রাজ্যে অসমীয়াদের ভাষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলার এক বাস্তব আতঙ্কে তারা সর্বদা শঙ্কিত। জাতির এই ভাষাকেন্দ্রিক আবেগ ও আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে পূর্ববঙ্গীয় বংশোদ্ভূত অনা-অসমীয়া মুসলমান, অর্থাৎ ‘মিঞারা’ শুধুমাত্র লোকগণনায় মাতৃভাষা অসমীয়া বলে লিখেই ইতিমধ্যে তথাকথিত ‘বিশুদ্ধ অসমীয়া’ হয়ে ওঠার পাশাপাশি মূলস্রোতের খিলঞ্জিয়া অসমীয়ার একেবারে আপন হয়ে উঠেছে।

অথচ অসমের হিন্দু বাঙালি, মারোয়ারী, বিহারী প্রভৃতি হিন্দু জনগোষ্ঠীগুলি এই কাজ করছে না। যার ফলস্বরূপ অসমীয়ারা আজ ভাষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বার্থে ‘মিঞা’দের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং ‘মিঞা’দের জনসংখ্যাগত আগ্রাসনের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। আর এই সুযোগে ‘মিঞারা’ একদিক দিয়ে রাজ্যের খিলঞ্জিয়া মানুষদের নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

এই অবস্থায় অনা-অসমীয়া হিন্দু জনগোষ্ঠীগুলির অসমীয়া মূলস্রোতের সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে নাথ ও শইকীয়া সতর্ক করে দেন যে, অসমে ‘মিঞা’দের অপ্রতিহত আগ্রাসনের শিকার শুধু খিলঞ্জিয়া জনসাধারণই হবে তা নয়, কালক্রমে অসমবাসী বহিরাগত হিন্দুরাও এই একই আগ্রাসনের শিকার হবে।

তাই অসমীয়া ভাষাকে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করে সকল হিন্দু মিলে রাজ্যে একটি শক্তিশালী হিন্দু ঐক্য গড়ে তোলাই বর্তমানে বৃহত্তর হিন্দু সমাজের একমাত্র সুরক্ষা কবচ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই বিবৃতির মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ জনগোষ্ঠীকে লোকগণনায় মাতৃভাষা অসমীয়া লেখার পক্ষে কাজ করার জন্য বাঙালি যুব-ছাত্র ফেডারেশন, ভোজপুরী ছাত্র সংস্থা, মারোয়ারী যুব মঞ্চ প্রভৃতি সংগঠনের প্রতিও অনুরোধ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *