,

প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও আইআইটি” – উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হবে অসম: রাজ্য বিজেপি

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: ২০২৬-২৭ বর্ষের বাজেটকে সামনে রেখে অসমকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করল রাজ্য বিজেপি। দলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া পদক্ষেপের ফলেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনস্থিত রাজ্য বিজেপি কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রেস বিবৃতিতে দলের…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: ২০২৬-২৭ বর্ষের বাজেটকে সামনে রেখে অসমকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করল রাজ্য বিজেপি। দলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া পদক্ষেপের ফলেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনস্থিত রাজ্য বিজেপি কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মিডিয়া প্যানেলিস্ট ধর্মকান্ত গগৈ বলেন, “১০ জুলাই অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া যে বাজেট পেশ করেছেন তাতে রাজ্যের বিকশিত অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং জাতীয় নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিফলন স্পষ্ট।” তিনি বলেন বিগত ১০ বছরে রাজ্যের অভূতপূর্ব বিকাশের পেছনে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টা। “রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং একটি আইআইটি স্থাপন করে অসমকে উচ্চশিক্ষার গন্তব্যস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের যুবক-যুবতীরা দক্ষতা অর্জন করে রাষ্ট্রসেবায় ব্রতী হতে পারবে।” বর্তমানে রাজ্যে ১৪টি মেডিকেল কলেজ চালু রয়েছে। আরও ১০টির নির্মাণ কাজ বিভিন্ন স্তরে চলছে। নতুন বাজেটে গোয়ালপাড়া, হাইলাকান্দি, হোজাই ও বজালিতে আরও ৪টি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়ে হবে ২৮টি। উচ্চশিক্ষাকে আরও গতিশীল করতে বাজেটে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য বড় অঙ্কের তহবিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শিবসাগর, জগন্নাথ বরুয়া, কোকড়াঝাড়, বঙাইগাঁও ও গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা করে। মাধবদেব, ভট্টদেব, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বীরাঙ্গনা সতী সাধনী রাজ্য, অসম মহিলা, কুমার ভাস্কর বর্মা সংস্কৃত ও প্রাচীন অধ্যয়ন এবং মাজুলি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০ কোটি টাকা করে। রাজ্যের ২৭টি স্বায়ত্তশাসিত কলেজের জন্য শিক্ষাগত উন্নয়নে ২ কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, আইআইএম গুয়াহাটির এমবিএ কোর্সের প্রথম ব্যাচের পাঠদান ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আগস্ট মাস থেকেই শুরু হবে। চিকিৎসা পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ৩৩,২৪০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬,৮১৪ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ১০,৯৪২ জন স্টাফ নার্স, ৪,৬৬৯ জন ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ান। ধর্মকান্ত গগৈর মতে, এর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর ২ লক্ষ সরকারি নিয়োগের সংকল্প বাস্তবায়িত হবে। ধর্মকান্ত গগৈ বলেন, “যেখানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব অসমের যুবকদের দক্ষতা নেই বলে সেমিকন্ডাক্টর সহ বিভিন্ন শিল্পের বিরোধিতা করছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে অসমকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে অসম আজ ভারতের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও আত্মনির্ভর রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে অসমের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *