,

ঝাড়খণ্ডে বাংলা স্কুল বন্ধের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক সর্বভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চের

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে বাংলা ভাষা ও শিক্ষার অধিকার রক্ষার দাবিতে এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল সর্বভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চ। রবিবার একটি বিশাল অনলাইন সভার মাধ্যমে এই আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হয়। সভায় ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের ভাষা আন্দোলনের গবেষক, অধ্যাপক, সংগঠক ও প্রবীণ শিক্ষাবিদরা যোগ দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে বাংলা ভাষা ও শিক্ষার অধিকার রক্ষার দাবিতে এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল সর্বভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চ। রবিবার একটি বিশাল অনলাইন সভার মাধ্যমে এই আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হয়। সভায় ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের ভাষা আন্দোলনের গবেষক, অধ্যাপক, সংগঠক ও প্রবীণ শিক্ষাবিদরা যোগ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও ভাষা গবেষক নীতীশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ২০০০ সালে ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে বাংলা ভাষাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। বক্তাদের অভিযোগ, রাজ্যে প্রায় ৭০০টি বাংলা মাধ্যম স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে হিন্দিভাষী ও উত্তর বিহারী প্রশাসকদের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারও এই “বাংলা নিধন যজ্ঞে” পরোক্ষে মদত দিয়েছে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, অবিভক্ত বিহার সরকারের সময় চালু থাকা বাংলা বইগুলি বাতিল করা হলেও বিকল্প কোনো বইয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বহু ছাত্র বাধ্য হয়ে হিন্দি বিষয় নিয়েছে। রাজ্য সরকারের গাফিলতির কারণেই বাংলা স্কুলগুলি একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এর প্রতিবাদে শক্তিশালী আন্দোলন না থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বক্তাদের দাবি, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব কার্যত শূন্য।

এই লাগাতার অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সভা থেকে ঝাড়খণ্ডের সব বাংলাপ্রেমী সংগঠনকে নিয়ে একটি সমন্বয় সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ নেত্রী রীনা মন্ডল, ড. করুণা পেঞ্জিয়ারা, আশিস মন্ডল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন সরকার, ড.শম্ভু নাথ, কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায়, দুর্গা দাস ভান্ডারী, সাধুচরণ পাল, গোপাল পাল প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সমীর রায়, যূথিকা পান্ডে, ড.জ্ঞান প্রকাশ, ড.তন্ময় বীর, ড.শুভ্র চক্রবর্তী। শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান কবি কমল দে শিকদার, জয়শ্রী বসু, নিত্যানন্দ মন্ডল, প্রকাশ অধিকারী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট ও নাট্যকার শংকর চক্রবর্তী এবং চিত্রপরিচালক প্রতাপ দত্ত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *