বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: রাজ্যে সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার বিধানসভায় পৌঁছাল। সোমবার প্রশ্নোত্তর পর্বে এই ইস্যু তোলেন বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিজ্ঞাপনের নামে সরকারের মোট ব্যয়ের পরিমাণ কত। পাশাপাশি সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন মাধ্যম এবং হোর্ডিং বাবদ আলাদা আলাদা খরচের হিসাবও তিনি তলব করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান নীতিতে স্বচ্ছতা নেই। ফলে অনেক পত্রিকা ন্যায্য বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে থাকায় তাঁর হয়ে জবাব দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা। তিনি বলেন, “এতদিন এবিসি অর্থাৎ অডিট ব্যুরো অব সার্কুলেশন খুব কঠোরভাবে মানা হত না। বেশি কড়াকড়ি করলে সংবাদপত্রের মালিকরা সমস্যায় পড়বেন ভেবে সরকার মাঝামাঝি নীতি নিয়েছিল। গত পাঁচ বছর আমি জনসংযোগ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলাম। আমার মতে, এবিসি কঠোরভাবে মানলে বর্তমানে যেভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে সেভাবে সব পত্রিকা পাবে না।” ঌওয়াজেদ আলি চৌধুরী এরপর সার্কুলেশন অনুযায়ী সমানভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার আর্জি জানান। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন বণ্টনে স্বচ্ছতা ফেরাতে হলে সার্কুলেশনই একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত। টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও টিআরপি মেনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পীযূষ হাজরিকা বলেন, বিজ্ঞাপন বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকার এতদিন কঠোর ছিল না। তবে বিরোধী দলনেতার আর্জি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। এই প্রসঙ্গে সংবাদপত্র মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, একাংশ সংবাদপত্রের মালিকের দীর্ঘদিনের আর্জি হল, সরকারি বিজ্ঞাপন সমানভাবে দেওয়া হোক। তাঁদের বক্তব্য, কয়েক বছর ধরে চলা কিছু মাঝারি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সরকারি বিজ্ঞাপন পাচ্ছে, অথচ পুরনো পত্রিকাগুলি বঞ্চিত তাদেরকে সমান ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে না। অনেক পাক্ষিক, সাপ্তাহিক ও অর্ধ-সাপ্তাহিকগুলিকে সমান ভাবে দেখা হচ্ছে না তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সংবাদপত্র মালিকদের আরও বক্তব্য সাপ্তাহিক, অর্ধসাপ্তাহিক ও মাসিক ছোট-মাঝারি অনেক পত্রিকাই এবিসি-র আওতায় পড়ে না। সেক্ষেত্রে সরকারের বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই বৈষম্যের কারণে গত কয়েক বছরে রাজ্যের বহু ছোট সংবাদপত্র আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করে আসছে, তারাও প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন না পাওয়ায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। তাঁদের আশা, সরকার যদি সার্কুলেশনের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন দেয় এবং এবিসি-র বাইরের পত্রিকাগুলির বিষয়েও নীতি ঠিক করে তাহলে দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যের অবসান হবে। ফলে রাজ্যের সংবাদপত্র শিল্পে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং ছোট-বড় সব পত্রিকাই টিকে থাকার সুযোগ পাবে।












