লেনিন-মাও-গুয়েভার হিংসাত্মক দর্শনকে অসম কখনও মেনে নেবে না: রঞ্জীব কুমার শর্মা
নিজস্ব প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : “রাজ্যের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য কংগ্রেস সহ সমস্ত বিরোধী দল এবং একাংশ তথাকথিত বুদ্ধিজীবী একটি গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ব্যাপক অপপ্রচারের মাধ্যমে নৈরাজ্য ছড়িয়ে সমাজকে অস্থির করে তোলার জন্য Congress Echo System পরিকল্পিতভাবে প্রয়াস চালাচ্ছে” এই মন্তব্য রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র রঞ্জীব কুমার শর্মার।
দলের মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনে সাংবাদিকদের সম্বোধন করে শ্রী শর্মা আরও বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে Congress Echo System এর সঙ্গে জড়িত একাংশ লোক একটি নৈরাজ্যকর ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করে সমগ্র উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এই ধরনের নেতিবাচক প্রয়াস কখনও সফল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই অসমের জনসাধারণ গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে সমাজ থেকে সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, একাংশ লোক অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা লেনিন ও স্ট্যালিন, চীনের মাও সে তুং এবং কিউবার চে গুয়েভারার আদর্শ দিয়ে অসমের সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট করার যে প্রয়াস চালাচ্ছে তা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। লেনিন ও স্ট্যালিন সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯২০ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ, মাও সে তুং চীনে ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে প্রায় ৪০ লক্ষ এবং চে গুয়েভারা ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।
এই ধরনের লোককে আদর্শ হিসেবে নিয়ে নৈরাজ্য ছড়াতে চাওয়া লোকেরা মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব গুরুজনা যে বর অসমের সনাতনী ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তাকে এক প্রকারে অস্বীকার করছে। “কুকুর শৃগাল গর্দভেরও আত্মারাম, জানিয়া সকলকে করিবে প্রণাম” বলে গুরুজনা সেদিনই আমাদের একাত্ম মানব দর্শনের আদি শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
তাই মানবহত্যার রক্তরঞ্জিত ইতিহাসের খলনায়কদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা লোকদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র রঞ্জীব কুমার শর্মা মত প্রকাশ করেন।
দলের মিডিয়া প্যানেলিস্ট প্রিয়ংকা তামুলীর উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সম্বোধন করে শ্রী শর্মা আরও বলেন, অসমের থলুয়া খিলঞ্জিয়া সমাজ শিল্পের নামে হিংসা ও হিংসাত্মক চিন্তাধারাকে কখনও প্রশ্রয় দেয় না এবং মানেও না।












