,

ড.ভূপেন হাজারিকার সমন্বয় তীর্থ এবার বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: বিশ্ববরেণ্য শিল্পী ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকাদেবের জালুকবাড়িস্থিত পবিত্র সমন্বয় তীর্থ পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা একে দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান। পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী সমন্বয় তীর্থে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে সুধাকণ্ঠের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়া সমন্বয় তীর্থের মনোরম…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: বিশ্ববরেণ্য শিল্পী ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকাদেবের জালুকবাড়িস্থিত পবিত্র সমন্বয় তীর্থ পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা একে দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান। পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী সমন্বয় তীর্থে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে সুধাকণ্ঠের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়া সমন্বয় তীর্থের মনোরম দৃশ্য এবং শঙ্খাকৃতির মূল স্মৃতিসৌধের সামনে স্থাপিত ড.হাজারিকার ব্রোঞ্জ মূর্তি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সুধাকণ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, অসম ও অসমীয়া জাতিকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করানো এই কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতি সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার সমন্বয় তীর্থের সার্বিক উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে ড.ভূপেন হাজারিকাদেবের বিশাল সৃষ্টি ও কর্মরাজির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্মৃতিসৌধটির স্থাপত্য ও পরিবেশের নবীকরণ করা হবে যাতে দর্শনার্থীরা তাঁর জীবন ও আদর্শের সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমের আধুনিক ব্যবস্থা সংযোজন করা হবে। এর ফলে দর্শনার্থীরা অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতরত্নের ভার্চুয়াল মূর্তির সাথে সেলফি তোলা, তাঁর বিখ্যাত গানের লাইন শোনা ও গানের অনুশীলন করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিন ও অডিও-ভিজ্যুয়াল গ্যালারির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ড.হাজারিকার গান, কবিতা, চলচ্চিত্র ও সামাজিক চিন্তাধার সাথে পরিচিত করানো হবে। তৃতীয়ত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তীর্থ প্রাঙ্গণে একটি আধুনিক উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হবে যেখানে বছরের বিভিন্ন সময়ে সুধাকণ্ঠের গান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হবে। চতুর্থত, সমন্বয় তীর্থের রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন কার্যসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ পরিচালনা সমিতি গঠন করা হবে। এই সমিতি বছরের সবসময় সুধাকণ্ঠ চর্চা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানটিকে প্রাণবন্ত রাখার দায়িত্ব পালন করবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই সমস্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমন্বয় তীর্থ শুধুমাত্র একটি স্মৃতিসৌধই থাকবে না, বরং এটি অসমের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সংগীতের এক জীবন্ত কেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *