,

জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান নিয়ে কড়া প্রোটোকল কেন্দ্রের, সরকারি অনুষ্ঠানে এবার মানতেই হবে কঠোর নিয়ম

শুদ্ধ উচ্চারণ, অনুমোদিত পাঠ, নির্দিষ্ট ক্রম ও দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক। শব্দ-সুরে রদবদল করলেই ব্যবস্থা বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার আরও কঠোর হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে এই দুটি গান কীভাবে পরিবেশন করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নতুন…

শুদ্ধ উচ্চারণ, অনুমোদিত পাঠ, নির্দিষ্ট ক্রম ও দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক। শব্দ-সুরে রদবদল করলেই ব্যবস্থা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার আরও কঠোর হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে এই দুটি গান কীভাবে পরিবেশন করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরকে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি মঞ্চে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান পরিবেশনের সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে উচ্চারণের শুদ্ধতার উপর। গানের প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে উচ্চারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত লিখিত পাঠই ব্যবহার করা যাবে। আয়োজকরা নিজেদের মতো করে কথা বা সুরে কোনও রকম পরিবর্তন, সংক্ষেপণ বা নতুন সংযোজন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গান চলাকালীন মাঝখানে অন্য কোনও গান, বাদ্যযন্ত্র বা সঙ্গীত পরিবেশন করা যাবে না। পুরো গানটি একটানা এবং মর্যাদার সঙ্গে শেষ করতে হবে।

একই সরকারি অনুষ্ঠানে যদি রাজ্য সংগীত, জাতীয় গান এবং জাতীয় সংগীত তিনটিই পরিবেশনের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেক্ষেত্রেও ক্রম বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথমে পরিবেশন করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্য সংগীত। তারপর গাইতে বা বাজাতে হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। এবং সর্বশেষে অনুষ্ঠানের একদম শেষে সমবেতভাবে গাইতে হবে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’। এই ক্রম লঙ্ঘন করা যাবে না।

‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রে আলাদা করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবলমাত্র সরকার স্বীকৃত পূর্ণাঙ্গ সংস্করণই গাওয়া বা বাজানো যাবে। সংক্ষিপ্ত বা আংশিক সংস্করণ পরিবেশনের অনুমতি নেই।

জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গানের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়েও কড়া নির্দেশ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, যখনই জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গান বাজানো বা গাওয়া হবে, তখন উপস্থিত সকলকে সতর্ক ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তা শুনতে হবে। বসে থাকা, কথা বলা বা অন্য কাজ করা যাবে না। তবে এই নিয়মের একটি ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যদি কোনও চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র, নিউজরিল বা ডকুমেন্টারির অংশ হিসেবে জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গান দেখানো বা শোনানো হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে দর্শকদের দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়।

কেন্দ্রের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক এবং দেশের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গানের এক বিশেষ স্থান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে এই দুটি গান পরিবেশনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি নজরে আসায়, দেশের মানুষের আবেগ ও অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই এই নতুন প্রোটোকল জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনও গাফিলতি না হয় এবং গান দুটির গৌরব বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া নির্দেশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সব রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজকদের এই নিয়মগুলি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *