,

সুস্মিতা, সুখেন্দুশেখর ও প্রকাশ চিকের বিজেপিতে যোগদান

২৪ জুলাইয়ের রাজ্যসভা ভোটের আগেই বড় চমক, শমীক বললেন ‘এখন একটাই পরিচয় সকলে বিজেপি’ বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পরই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তৃণমূলের তিন সাংসদ সুস্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক। বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেকের রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে তাঁরা…

২৪ জুলাইয়ের রাজ্যসভা ভোটের আগেই বড় চমক, শমীক বললেন ‘এখন একটাই পরিচয় সকলে বিজেপি’
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পরই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তৃণমূলের তিন সাংসদ সুস্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক। বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেকের রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। প্রথমে দপ্তরে আসেন সুস্মিতা দেব ও সুখেন্দুশেখর রায়। কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন প্রকাশ চিক বরাইক। এরপরই তিনজনকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মোদির নেতৃত্বে গোটা দেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে শামিল হতেই তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন। আমরা আগেই বলেছিলাম, যারা চাকরি বিক্রি করেছে, দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। এঁদের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই। সকলের একটা অতীত থাকে। এখন আর তাঁদের দলত্যাগী বলবেন না। তাঁদের একটাই পরিচয়, সকলে বিজেপি।” তিনি আরও বলেন, এই তিনজনের যোগদান ব্যতিক্রমী ঘটনা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দলে নেওয়ার ব্যাপারে যে নীতি ছিল, তা থেকে সরে আসা হচ্ছে না। তবে তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে যারা দুর্নীতি করেননি, বিজেপি তাদের পাশে থাকবে। সংসদে এই তিন নেতা যে দলেরই হোক না কেন, প্রশংসনীয় কাজ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “আর জি কর আন্দোলনের সময়ে যখন গোটা দেশ রাস্তায় নেমে গিয়েছিল, তখনই তৃণমূলের বুঝে যাওয়া উচিত ছিল যে বিপদঘণ্টা বেজে গিয়েছে। বামেরা শিল্পে খরা করে গিয়েছে। তারপর তৃণমূল এসেও কিছু হয়নি। বাম আমল দেখেছি, কংগ্রেস আমলও দেখেছি। এখন বিজেপিকে একবার সুযোগ দেওয়া উচিত।” এদিন তিনি তাঁর বাবা শিবেন্দুশেখর রায়ের প্রসঙ্গও তোলেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “শিবেন্দুশেখর রায়ের জন্যই আজ ফরাক্কা সেতু দেখতে পাচ্ছেন। মালদাকে এই দেশের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন। আজ উনি না থাকলে যাঁরা ওখানের ঐতিহ্যকে ভোগ করছেন, তাঁরা কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিয়ে কোন দিকে ছিলেন সেটাও মানুষ জানেন। এই সব ইতিহাস এই সরকারের আমলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসবে।” প্রসঙ্গত, গত মাসে পরপর তিন তৃণমূল সাংসদের পদত্যাগের জেরে রাজ্যসভায় শূন্যপদ তৈরি হয়। আগামী ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার ৩টি আসনে উপনির্বাচন হবে। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে এবার তিনটি আসনই বিজেপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা। কারণ বিধায়ক সংখ্যা এবং তৃণমূল শিবিরে ভাঙনের জেরে ঘাসফুল শিবির প্রার্থীই দিতে পারবে না। তার ভিত্তিতেই তিনটি আসন বিজেপির দখল করার কথা। বিজেপি কাদের প্রার্থী করবে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম রাজনৈতিক মহল। এমন সময়ে সুস্মিতা, সুখেন্দুশেখর ও প্রকাশের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে যোগদান করায় জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। গত সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মদিবসে শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলিপুরের ‘সৌজন্য’ প্রেক্ষাগৃহে তাঁর বৈঠক চলাকালীন সুখেন্দুশেখর রায় দেখা করতে যান। সূত্রের খবর, সেসময় তাঁর দলবদল নিয়েই আলাদা করে কথা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে নবান্নেও দেখা গেল রাজনৈতিক সরগরম ছবি। সদ্য তৃণমূল থেকে দলে মিশে যাওয়া সাংসদ ইউসুফ পাঠান ও শতাব্দী রায় হাজির হন নবান্নে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। ক’দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতা সফরে এসে প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এরপরই আজ নবান্নে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলেও শোনা যাচ্ছে। একদিকে বিজেপির দপ্তরে তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদের যোগদান, অন্যদিকে নবান্নে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সব মিলিয়ে ২৪ জুলাইয়ের রাজ্যসভা ভোটের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *