রাজ্যে ৭০ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০ পরিবার রেশনের আওতায়, উপকৃত ২ কোটি ২৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ১৫৭ জন
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: গুয়াহাটি : জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় রাজ্যে বর্তমানে ৭০ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০টি পরিবার রেশন কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিবারগুলিতে মোট উপকৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ১৫৭ জন। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ দফতর সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মন্ত্রী কৌশিক রায়।
জনগণনার পরই নতুন কার্ডের সম্ভাবনা
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যের জন্য রেশন কার্ডের সর্বোচ্চ সীমা ধার্য করা হয়েছে ২.৬১ কোটি। সেই সীমা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হওয়ায় আপাতত নতুন করে আর কোনও কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “২০২৬ সালের জনগণনার কাজ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্র যদি রাজ্যের জন্য সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে, তাহলে আমরাও নতুন করে রেশন কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করব।”
গত ৩ বছরে বড়সড় বাছাই, বাদ ৬০ লক্ষ নাম
কৌশিক রায় জানান, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গত তিন বছরে রাজ্য সরকার প্রায় ৬০ লক্ষ অযোগ্য সুবিধাভোগীর নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। একইসঙ্গে নতুন করে উপকৃতদের যুক্ত করার কাজও চলেছে।
২০২৪ সালে ৪৫ লক্ষ এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরও ১৯ লক্ষ মানুষকে নতুন করে কার্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সমান হারে ৪ হাজার করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, “নাম তোলার আগে ভেরিফিকেশন কমিটি এবং স্ক্রুটিনি কমিটি প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে দেখেছে। ফলে বড় ধরনের ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা নেই।”
ক্যানসার ও জটিল রোগীদের জন্য দ্রুত পরিষেবা
কংগ্রেস বিধায়ক জাকির হুসেন শিকদার বিধানসভায় অভিযোগ করেন, ক্যানসার, কিডনি, হার্টের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেশন কার্ডের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাধারণ প্রক্রিয়ায় তা পেতে দেরি হয়।
এর জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের জরুরি ক্ষেত্রের জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে। রোগীর পরিবার জেলা আয়ুক্তের দফতরে আবেদন করলে বিষয়টি সরাসরি কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। বড় জেলার জেলাশাসক ১ হাজার এবং ছোট জেলার জেলাশাসক ৫০০ পর্যন্ত কার্ড অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন। কমিশনারের অনুমোদন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্ড ইস্যু করা হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ ও সরকারের অবস্থান
কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল সুবহান আলি অভিযোগ করেন, অনেক পরিবারে ৫-৬ জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও কয়েকজনের নাম বাদ পড়েছে। আবার একই পরিবারের সদস্যরা আলাদা আলাদা কার্ডে ঢুকে পড়ায় প্রকৃত হকদাররা রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে এই ধরনের ভুল সংশোধনের দাবি জানান।
মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের অভিযোগ পেলে জেলা খাদ্য দফতরে লিখিত আবেদন করতে হবে। যাচাইয়ের পর ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে।
২০১১ সালের জনগণনাই ভিত্তি
উল্লেখ্য, বর্তমানে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই রাজ্যে রেশন বণ্টন চলছে। কেন্দ্রীয় কোটা বাড়লে নতুন জনগণনার তথ্য অনুযায়ী আরও লক্ষ লক্ষ পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেশন সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার জন্য উপকৃতরা সরাসরি নিজ নিজ জেলার খাদ্য দফতর বা ফুড কমিশনারের অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।












