বনমহোৎসবে পবিতরা থেকে কর্মসূচির সূচনা, ১০-১৪ আগস্ট ১ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ৭৭তম বনমহোৎসব উপলক্ষে অসমের বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়া বৃহস্পতিবার রাজ্যের জন্য উচ্চাভিলাষী ‘গ্রিন ভিশন’ ঘোষণা করলেন। বনাঞ্চল বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রী পবিতরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, বনকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ৭৭টি চারা রোপণ করেন। সমাবেশে তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের একার কাজ নয়। এটাকে জনআন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে সবুজ অসম গড়তে এগিয়ে আসতে হবে।”
অমৃত বৃক্ষ আন্দোলন: ৪ দিনে ১ কোটি চারা
ঘোষণার বড় আকর্ষণ ‘অমৃত বৃক্ষ আন্দোলন’। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ১০ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে রাজ্যজুড়ে ১ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে অংশ নেবে প্রায় ১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। স্কুল, কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল কলেজের পড়ুয়ারা প্রত্যেকে ১০টি করে চারা লাগাবে। এটিই হবে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বৃক্ষরোপণ অভিযান।
মন্ত্রী জানান, চারা লাগানোই শেষ কথা নয়। সেগুলো যাতে বাঁচে তা নিশ্চিত করতে জব কার্ডধারীরা ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করবেন। চারার বেঁচে থাকার হারের ভিত্তিতে আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হবে। জিও-ট্যাগ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে গাছ বাঁচিয়ে রাখা পড়ুয়াদের ‘বৃক্ষ বন্ধু’ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। “আমাদের লক্ষ্য শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বন হিসেবে গড়ে তোলা,” বলেন বরুয়া।
‘ফলবারি’ মিশন: ১ কোটি দেশীয় ফলের চারা
বনমন্ত্রী আগামী বছর থেকে ‘ফলবারি’ নামে আরেকটি উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন। এর আওতায় অসমজুড়ে ১ কোটি দেশীয় ফলের চারা বিতরণ করা হবে। আম, কাঁঠাল, লেটেকু, পনিয়াল, করদৈ, কাজি নেমু-র মতো ঐতিহ্যবাহী ফলের প্রজাতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করাই লক্ষ্য। এই প্রকল্পের জন্য নার্সারি প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে এ বছরই।
‘জন্মদিন সেউজ শপথ’ ও চর-চাপরি সবুজায়ন
জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে অসমের প্রতিটি বনাঞ্চলে ‘জন্মদিন সেউজ শপথ’ বাগান তৈরি করা হবে। শুধু কেক কেটে নয়, গাছ লাগিয়ে জন্মদিন উদযাপনে উৎসাহ দেওয়া হবে। বনমহোৎসবের শেষ দিন ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি চালু হবে। আগাম চারা বুকিংয়ের জন্য অনলাইন পোর্টালও থাকছে।
ব্রহ্মপুত্রের তীরের অনুর্বর চর এলাকা সবুজ করতে নেওয়া হয়েছে ‘চর-চাপরি সবুজায়ন উদ্যোগ’। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচিত চরাঞ্চলে বীজের বল ছড়ানো হবে। প্রাথমিক ফলাফল দেখে রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে।
অবৈধ করাতকলে কড়া হুঁশিয়ারি
বন সুরক্ষা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অসমজুড়ে অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। “প্রতিদিন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব রেঞ্জ অফিসার ও ডিএফও-কে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অবৈধ করাতকল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়। নিজের এলাকায় অবৈধ করাতকল চললে আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হবে,” হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অসমকে আরও সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। “অসমের বন ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সমাজের প্রতিটি অংশকে অংশীদার করাই আমাদের ভিশন,” যোগ করেন বরুয়া।












