,

বান সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সমন্বিত বান নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে অসম: রাজ্যিক বিজেপি

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের বান সমস্যা শুধু অসমে উদ্ভূত সমস্যা নয়, বরং হিমালয় পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত নদীগুলির দ্বারা সৃষ্ট এক সামগ্রিক সমস্যা। রাজ্যিক বিজেপির মুখ্য কার্যালয় বাজপেয়ী ভবন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র মিতা নাথ বরা বলেন, গত প্রায় ৭ দশক ধরে অসমের বানের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থা মাটির বাঁধ নির্মাণ, কিছু…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের বান সমস্যা শুধু অসমে উদ্ভূত সমস্যা নয়, বরং হিমালয় পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত নদীগুলির দ্বারা সৃষ্ট এক সামগ্রিক সমস্যা। রাজ্যিক বিজেপির মুখ্য কার্যালয় বাজপেয়ী ভবন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র মিতা নাথ বরা বলেন, গত প্রায় ৭ দশক ধরে অসমের বানের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থা মাটির বাঁধ নির্মাণ, কিছু জায়গায় নদী খনন, পুনর্বাসন, ভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং বানপীড়িত মানুষের ত্রাণেই সীমাবদ্ধ ছিল।

শ্রীমতী বরা বলেন, অসমের বান সমস্যার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তিব্বত থেকে শুরু হওয়া ব্রহ্মপুত্রের জলপ্রবাহ পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক বালি-পাথরের পলি বহন করে। নদীর বুকে এই বিপুল পরিমাণ পলি জমার ফলে ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীগুলির তলদেশ ফুলে ওঠায় এই নদ-নদীর জলধারণ ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভুটান ছাড়াও অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড প্রভৃতি রাজ্য থেকে ৫০টির বেশি নদী অসমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষাকালে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মেঘ বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত বৃষ্টিতে এই নদীগুলি মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের বহন ক্ষমতার চেয়ে বেশি জল ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নিয়ে আসায় রাজ্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়ে। ব্রহ্মপুত্রের ঘন ঘন স্রোত পরিবর্তন ও ভাঙনের ফলে রাজ্য প্রতি বছর কয়েক হাজার হেক্টর জমিও হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, অসমে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশ, ভুটান ও তিব্বতে অস্বাভাবিক বৃষ্টি অসমের বান পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে নগর-শহরের সম্প্রসারণও আমাদের প্রাকৃতিক জলাধারের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় বর্ষাকালে শহরাঞ্চল, বিশেষ করে গুয়াহাটি মহানগরীর কৃত্রিম বান জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, চিন, ভুটান এবং স্বাধীনতার পর ভারতে নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই করা হয়েছিল। এর সঙ্গে বান প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা প্রকল্পের নিম্ন অংশের পরিবেশে পড়া প্রভাব নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কুফলও রাজ্যকে ভুগতে হচ্ছে। নদীর উজানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিকে যদি বিজ্ঞানসম্মতভাবে বহুমুখী প্রকল্প হিসেবে নির্মাণ করা হতো, তাহলে এর মাধ্যমে বান প্রতিরোধও কিছুটা সম্ভব হতো।

রাজ্যের মোট ভূমির ৪০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩১.০৫ লাখ হেক্টর জমি বানপ্রবণ এলাকার অন্তর্গত। শ্রীমতী বরা বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সরকার রাজ্যের মাটির বাঁধগুলি মজবুতভাবে পুনর্নির্মাণ এবং এই বাঁধগুলিকে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করায় বান ও ভাঙন প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। গত ৫ বছরে রাজ্য নতুন করে প্রায় ৭০০.৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে। পাশাপাশি পুরোনো বাঁধের ৫৪০.২ কিলোমিটার মেরামত করে বান ও ভাঙন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

এই সময়ে ৩২০.৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জুড়ে প্রায় ২৮০টি ভাঙন প্রতিরোধী প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া জলপ্রবাহ প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে ৪৩টি নতুন জলকপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার ফলেই সাম্প্রতিক বানে রাজ্যের মোট ১২৪০.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধের মধ্যে মাত্র এক জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে।

অন্যদিকে রাজ্য সরকার সম্প্রতি বান ও ভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আগামী কয়েক বছরে শেষ করা হবে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে অসম সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, জলবায়ু সহনশীল ব্রহ্মপুত্র সমন্বিত বান ও নদী ভাঙন ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, জাতীয় জলবিদ্যা প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে নদীর জল ব্যবহারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিজ্ঞানসম্মত প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বান ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বানের আগাম সতর্কতা প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বান ও ভাঙন প্রতিরোধে আগের সরকারের নেওয়া প্রথাগত ব্যবস্থার বদলে বর্তমান বিজেপি সরকার এক বিজ্ঞানসম্মত সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে রাজ্যে বান ও ভাঙনের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *