বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ভোট এলে শিল্পীদের কদর বাড়ে। ভোট ফুরিয়ে গেলেই আর পাত্তা দেওয়া হয় না। অথচ প্রকৃত দেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চা, এটা ভুললে চলবে না। সংস্কৃতি না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। মিছিলে ঢোল বাজাতে শিল্পী চাই, মঞ্চে গান গাইতে শিল্পী চাই। অথচ শিল্পীর পেটে ভাত নেই, মাথার উপর ছাদ নেই, বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার মঞ্চ নেই। — বরাক উপত্যকার হাজার হাজার শিল্পীর কষ্টের কথা আজ বাতাস ভারী করে তুলেছে।
ইট-পাথর-সিমেন্টের উন্নয়নের পাশাপাশি যে সংস্কৃতি একটা জাতির আত্মা, যে গান-নাটক-ধামাইল একটা জনপদের পরিচয়, সেই সংস্কৃতিই আজ বরাকে কঠিন সময় পার করছে। শিল্পীদের অনুরোধ — এখনই এই দিকে নজর দেওয়া দরকার। নইলে আগামী প্রজন্ম সংস্কৃতি চর্চা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।
গান্ধীভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লেন শিল্পী শ্রুতি বিশ্বাস
১জুলাই গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠান শুরুর কথা ছিল। কিন্তু শুরুর আগেই দিনের বেলায় হলের ভিতরে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী শ্রুতি বিশ্বাস। গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহের সঠিক পরিকাঠামো না থাকায় গরমে সবাই কষ্ট পাচ্ছেন। বাচ্চা থেকে বয়স্ক শিল্পীর একই অবস্থা।
তড়িঘড়ি করে অসুস্থ শিল্পীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। অসুস্থ হওয়ার পর তাঁদের আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান বাতিল করে দিতে হয়। আয়োজক পড়েন ভীষণ বিপদে। অনেক দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেননি। বাইরের বহু শিল্পী আমন্ত্রিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। তাঁরাও মঞ্চের এই করুণ দশা দেখে গেলেন। তবে গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহের কর্মী হাবিবুর এবং যুব দর্পণ পত্রিকার কর্ণধার দিলু দাস অনেক সাহায্য করেছেন শিল্পীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য।
গান্ধীভবন: দীর্ঘদিনের সমস্যা
শিলচরের গান্ধীভবন অনেক বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ আধুনিক সুবিধা এখনও নেই। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। দেওয়াল পাখাও ঠিকমতো ঘোরে না। গরমের সময় দর্শক-শিল্পী সবার কষ্ট হয়।
“কিছুক্ষণের মধ্যেই গা দিয়ে ঘাম ঝরে। জামা ভিজে যায়। দর্শক গরমে কষ্ট পেয়ে হল থেকে বেরিয়ে যান। দেশ-বিদেশের অতিথিকে ডেকে এনে এভাবে অসুবিধায় ফেলা ঠিক নয়,” — বললেন এক বর্ষীয়ান নাট্য নির্দেশক।
শব্দ ব্যবস্থাও ভালো নয়। কথা স্পষ্ট বোঝা যায় না। আলোর অনেকগুলো নষ্ট, বাকিগুলো মিটমিট করে। মঞ্চের পর্দা ছেঁড়া। সবুজ কক্ষের ছাদ দিয়ে জল পড়ে। বর্ষায় সাজঘরে সমস্যা হয়। শৌচাগারের অবস্থাও খারাপ।
“বাইরে থেকে বড় শিল্পী আনলে তারা হল দেখে হতাশ হন। বলেন, ‘তোমাদের এখানে শিল্পের কদর নেই’। এই কষ্ট শুধু আমাদের নয়, গোটা বরাকের, গোটা অসমের,” — চোখের জল মুছলেন এক সংগীতশিল্পী।
আন্দোলনের ফলেই সংস্কার হয়েছিল গান্ধীভবন
বহু বছর আগে পুরসভার চেয়ারম্যান বীথিকা দেব দায়িত্বে থাকাকালীন শিলচর ইয়ুথ কয়্যারের আবেদনে সাড়া দিয়ে গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহ ঠিকঠাক করা হয়েছিল। এর অনেক বছর পর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের আন্দোলনের ফলে আবার গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহ ঠিকঠাক হয় মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার রায়ের নেতৃত্বে। নতুন করে মঞ্চ তৈরি হয়, দর্শক আসনের জন্য চেয়ার বসে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের সহযোগিতায় মঞ্চের পর্দা লাগানো হয়।
কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আবার সেই পুরনো দশায় ফিরে গেছে গান্ধীভবন। গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহের ভাড়া এবং সংস্কারের জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের সদস্যরা লাগাতার আবেদন করে যাচ্ছেন। “বহু বছর ধরে সংস্কারের ফাইল নেতা-মন্ত্রী-আমলার টেবিলে ঘুরছে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি,” — বললেন মঞ্চের এক সদস্য।

কয়েক লক্ষ মানুষের শহরে হাতে গোনা হল
শিলচর শহর ও আশপাশ মিলিয়ে মানুষ কয়েক লক্ষ। অথচ অনুষ্ঠান করার মতো প্রেক্ষাগৃহ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাতে গোনা কয়েকটা — গান্ধীভবন, রাজীব ভবন আর বঙ্গভবন। একটা ভালো তারিখের জন্য অনেক মাস আগে আবেদন করতে হয়।
পরীক্ষা, বিয়ে, সরকারি সভা, দলীয় মিটিং, ধর্মীয় অনুষ্ঠান — সব এই হলগুলোতেই হয়। “আমাদের মতো ছোটো দলের পরিচিতি কম। টাকা নেই। ফলে বছরে একটাও মঞ্চ পাই না। টাকার অভাবে নতুন ছেলেমেয়েগুলোকে নিয়ে মহড়া করি, কিন্তু মঞ্চে তোলার সুযোগ হয় না,” — বললেন তরুণ নাট্যকর্মী।
বেসরকারি হলের খরচ বহন করা কঠিন
সরকারি হল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি হলে গেলে খরচ অনেক বেশি। কয়েক ঘণ্টার জন্য ভাড়া অনেক টাকা আলো, শব্দ, চেয়ার, সাজসজ্জা সব আলাদা খরচ। একটা মাঝারি মানের অনুষ্ঠানে খরচ অনেক।
টিকিট বিক্রি করার প্রশ্নই নেই। পৃষ্ঠপোষকও কম। ফলে অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকের মাথায় অনেক টাকার দেনা চেপে বসে।
গত কয়েক বছরে শিলচরে অনেক নাট্যদল, গানের দল, নৃত্য সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। গরিব ঘরের প্রতিভা মঞ্চের আলো দেখার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে।
জেলা গ্রন্থাগার: বহু বছরেও কাজ শেষ হয়নি
“শিলচরে বিশ্বমানের জেলা গ্রন্থাগার হবে” — এই প্রতিশ্রুতি বহু বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। এখনও কাজ শেষ হলো না।
ছাত্র, গবেষক, চাকরি প্রার্থী, অবসরপ্রাপ্ত মানুষ — সবাই একটা নিরিবিলি পাঠকক্ষ, একটা বইয়ের গন্ধের জন্য অপেক্ষা করছেন। “বই না পড়লে মনন তৈরি হবে কী করে? জাতি এগোবে কী করে?” — প্রশ্ন তুললেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।
নিউ শিলচরে খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, মিলনায়তন নেই
নিউ শিলচর, রাঙ্গিরখাড়ি, সোনাই রোড — গোটা এলাকায় একটা সরকারি খেলার মাঠ নেই। একটা শিশুপার্ক নেই। একটা সাংস্কৃতিক মিলনায়তন নেই। বছরের পর বছর এলাকাবাসী আবেদন করছেন।
“বিকেলে বাচ্চারা কোথায় যাবে? রাস্তায় খেলতে গেলে দুর্ঘটনার ভয়। ফলে ওরা ঘরে বসে মোবাইলে সময় কাটায়, নয়তো বিপথে যায়,” — বললেন স্থানীয় নাগরিক।
শিল্পী ও সমাজকর্মীদের মতে, “মাঠ-মঞ্চ-পার্ক-গ্রন্থাগার না থাকলে যুব সমাজ বিপথে যেতে পারে।”
সাংস্কৃতিক দপ্তর: পরিকাঠামোর অভাব
বরাকে সাংস্কৃতিক দপ্তরের কার্যালয় আছে। কিন্তু কর্মী আছে মাত্র একজন। চেয়ার ভাঙা, টেবিল নেই, কম্পিউটার নেই। শিল্পীরা অনুদান, কর্মশালা, পেনশনের খবর নিতে গেলে অসুবিধায় পড়েন।
রাজ্য সরকার প্রতি বছর সংস্কৃতির জন্য বাজেট করে। “সেই টাকার সঠিক ব্যবহার বরাকে হচ্ছে না। আমরা কি অসমের সন্তান না?” — বললেন কিছু সংস্কৃতি কর্মী।
আয়োজকদের বক্তব্য: “শিল্পীর জীবনের মূল্য আছে”
বরাকভ্যালি নিউজ পেপার ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ ধর, সম্পাদক বিজয় দেবনাথ সহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন, “শ্রুতি বিশ্বাসের দলের অনুষ্ঠান খুবই আকর্ষণীয় ছিল। দিনের বেলায় সকাল থেকে দর্শক ভিড় করেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুই হলো না। বাইরের শিল্পীদের সামনে আমাদের অসুবিধায় পড়তে হলো। অনেক টাকা খরচ করে আয়োজন করলাম, অথচ হলের দুরবস্থার জন্য সব বাতিল করতে হলো। বহু বছর ধরে গান্ধীভবনের এই হাল। শিল্পীরা কষ্ট করে অনুষ্ঠান করতে আসে।”
নিজেকে সংস্কৃতি কর্মী বলা মুখোশধারীদের নীরবতা: বিশ্বাসঘাতকতার চেয়েও ভয়ংকর
এই মৃত্যুপুরীতে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করছে তারাই, যারা সকাল-বিকাল নিজেদের ‘সংস্কৃতি কর্মী’, ‘শিল্পী দরদী’, ‘ঐতিহ্যের রক্ষক’ বলে বুক চাপড়ায়। মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ফুলের মালা পরে ছবি তোলে, সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসে, অনুদানের ভাগ নিয়ে পকেট ভরে।
কিন্তু গান্ধীভবনের পচা দুর্গন্ধে তাদের নাক বন্ধ। শিল্পীর আত্মহত্যায় তাদের চোখ অন্ধ। অনেক নাট্যদল বন্ধ হয়ে গেল, গানের দল কবরে গেল — তবু তাদের মুখে কুলুপ। ভয়, যদি মন্ত্রী রাগ করে! ভয়, যদি অনুদান বন্ধ হয়! ভয়, যদি মঞ্চের পাশের চেয়ারটা হাতছাড়া হয়!
সংস্কৃতি মানে তো শুধু মঞ্চে উঠে গান গাওয়া, নাটক করা, নাচ করা, আবৃত্তি করা, বক্তব্য দেওয়া নয়। সংস্কৃতি মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। শিল্পীর পেটে লাথি পড়লে গর্জে ওঠা। যারা তা করে না, তারা সংস্কৃতি কর্মী নয় — তারা সুবিধাবাদী, তারা দালাল, তারা সংস্কৃতির লাশবাহী গাড়ির ড্রাইভার।
বরাকের ইতিহাস এই নীরব মুখোশধারীদের ক্ষমা করবে না। কাল যখন নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করবে, ‘আপনারা তখন কোথায় ছিলেন?’ — জবাব দেওয়ার মুখ থাকবে তো?
সন্তোষ চন্দের স্পষ্ট বক্তব্য:
শহরের বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী সন্তোষ চন্দ বলেন, “২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আমি নিজে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার কাছে আর্জি রেখেছিলাম। বলেছিলাম, ‘স্যার, অসমের দুস্থ, অসহায় খুব বিপদে। চিকিৎসা করানোর মতো ক্ষমতা নেই। ওদের জন্য কিছু করুন।’ মুখ্যমন্ত্রী আমার কথা মন দিয়ে শুনেছিলেন এবং বলেছিলেন তিনি দেখবেন। এরপর এক মাসের মধ্যেই তিনি আসামের শিল্পীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা চালু করেছেন। এই মানবিক কাজের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
চন্দ আরও যোগ করেন, “কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই — শুধু স্বাস্থ্য বীমা দিয়ে বরাকের সংস্কৃতি বাঁচবে না। এতে শিল্পীর সম্মান ফেরে না। শিল্প বাঁচে মঞ্চে, চর্চায়, সৃষ্টিতে। শিল্পী বাঁচে পারিশ্রমিকে, সুযোগে, অধিকারে। সরকারকে বুঝতে হবে — স্বাস্থ্য বীমা হলো মৃত্যুপথযাত্রীকে ব্যথার ওষুধ দেওয়া। আমাদের দরকার অপারেশন। দরকার নতুন প্রেক্ষাগৃহ, দরকার খেলার মাঠ, দরকার গ্রন্থাগার, দরকার ন্যায্য পারিশ্রমিক। শিল্পী বাঁচলেই সংস্কৃতি বাঁচবে। সংস্কৃতি বাঁচলেই বরাক বাঁচবে। বরাক বাঁচলেই অসম বাঁচবে।
সংস্কৃতি না বাঁচলে ক্ষতি সবার
এক: হারিয়ে যাবে হাজার বছরের পরিচয়। কিছু বছর পর ধামাইল, ঝুমুর, বরাকের নিজস্ব নাটক-যাত্রা-পালাগান হারিয়ে যেতে পারে। নতুন প্রজন্ম জানবে না তাদের সংস্কৃতি কী ছিল।
দুই: সমাজে অস্থিরতা বাড়তে পারে। মাঠ-মঞ্চ-গ্রন্থাগার না পেয়ে যুবকরা হতাশ হতে পারে। হতাশা থেকে সমাজে সমস্যা বাড়তে পারে।
তিন: অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন শিল্পী মানে শব্দকর্মী, আলোকশিল্পী, সাজশিল্পী, মঞ্চকর্মী, ছাপাখানার কর্মী, গাড়ির চালক, চায়ের দোকানদার — সবাই নির্ভরশীল। সাংস্কৃতিক পর্যটন থেকেও আয় হয়।
চার: মনুষ্যত্বের চর্চা কমবে। গান, কবিতা, নাটক, খেলা এগুলো মানুষকে ভালো মানুষ হতে শেখায়। এগুলো কমে গেলে সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় হতে পারে।
শিল্পীদের দফা আবেদন
এক: গান্ধীভবন সংস্কার। গান্ধীভবনে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আধুনিক শব্দ ব্যবস্থা, আলো, নতুন চেয়ার, আধুনিক সাজঘর, পরিষ্কার শৌচাগারের ব্যবস্থা করা দরকার।
দুই: নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শিলচর, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দিতে আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স ও ডিজিটাল জেলা গ্রন্থাগারের কাজ শুরু করা দরকার।
তিন: নিউ শিলচরে পরিকাঠামো। নিউ শিলচর, রাঙ্গিরখাড়ি, সোনাই রোড এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ খেলার মাঠ, একটি আধুনিক শিশুপার্ক ও মিনি মিলনায়তন দরকার।
চার: শিল্পীর ন্যূনতম পারিশ্রমিক। সরকারি প্রেক্ষাগৃহে ছোটো সংগঠনের জন্য ভাড়া কমানো এবং প্রতিটি শিল্পীর জন্য অনুষ্ঠান-পিছু ন্যূনতম পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা দরকার।
পাঁচ: বরাকের জন্য বাজেট। রাজ্যের মোট সাংস্কৃতিক বাজেটের একটি অংশ বরাকের তিন জেলার জন্য রাখা এবং বয়স্ক শিল্পীদের জন্য মাসিক ভাতা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার।
“গান্ধীভবনের সমস্যা সমাধান করা মানে শুধু হল ঠিক করা নয়। ওটা বরাকের সংস্কৃতিকে বাঁচানো,” — বললেন শিল্পীরা।
“ সরকার আমাদের পাশে দাঁড়ালে, কাল আমরাই গান, নাটক, নাচ, আবৃত্তি দিয়ে সমাজকে সুন্দর করব। এই রাজ্যকে এগিয়ে নেব।”
সরকারের কাছে শিল্পীদের আবেদন — বরাক শুধু ভোটের সময় নয়, সবসময় অসমের হৃদয়, অসমের আত্মা। আগামী বাজেটেই এই বিষয়গুলো দেখার অনুরোধ রইল।












