বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : দুর্নীতিতে জর্জরিত বলে অভিযোগ থাকা বন বিভাগের বিরুদ্ধে অ্যাকশন মোডে নবনিযুক্ত বন মন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবড়ুয়া। খানাপাড়ার স্টাফ কলেজে পর্যালোচনা বৈঠক পেতে ক্যামেরার সামনেই বন আধিকারিকদের কড়া ধমক দেন তিনি। মন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, বন বিভাগে এখন থেকে ব্যক্তিগত রয়েলিটি চলবে না। আধিকারিকদের ব্যক্তিগত রয়েলিটির কারণেই অসমের বনজ সম্পদের প্রাপ্য রয়েলিটি সরকার পাচ্ছে না। পাথর, বালি, মাটি, কাঠ প্রতিটি বৈধ কাজ থেকে সরকারকে রয়েলিটি পেতে হবে। বন বিভাগে ভালো জায়গায় পোস্টিংয়ের নামে টাকার বড় লেনদেনের অভিযোগ বহুদিনের। মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে বদলির নামে টাকার লেনদেন চলবে না। টাকার জোরে কাউকে পছন্দের জায়গায় পোস্টিং দেওয়া যাবে না। এমন করলে টাকা দেওয়া ও নেওয়া দুই আধিকারিকেরই কেরিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০-১৫ বছর এক আধিকারিক একটা ডিভিশন, রেঞ্জ, বিটে খুঁটি গেড়ে বসে থাকার সিস্টেম শেষ করতে হবে। এক জায়গায় তিন বছর হলেই বদলি হবে। জঙ্গলে থাকব বলে চাকরিতে ঢুকেছিলে, তাই শহরমুখী হওয়ার চিন্তা বাদ দিতে আধিকারিকদের সতর্ক করেন মন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল বন বিভাগ ও পরিবহন বিভাগ বনজ সম্পদের ব্যবসায়ীকে হয়রানি করছে। মন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, ব্যক্তিগত রয়েলিটির নামে ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা যাবে না। সরকারকে রয়েলিটি দেওয়া ব্যবসায়ী পাবে ফ্রি হ্যান্ড। একটা গাড়ি একবার বন বিভাগ, একবার এমভিআই ধরে হয়রানি করতে পারবে না। অবৈধ কাঠ মিল নিয়েও আধিকারিকদের কড়া সতর্কবাণী। প্রতিটি ডিএফও, রেঞ্জারকে আজকের মিটিংয়ের পর মন্ত্রীকে দিতে হবে নিজ এলাকার অবৈধ কাঠ মিলের তথ্য।

পর্যালোচনা বৈঠকেই মন্ত্রী ধরা ফেলেন দীর্ঘদিন ধরে চলা বড় অনিয়ম। ব্রাউন টিপির নামে বন বিভাগের টাকা যাচ্ছে এমট্রনে। ব্রাউন টিপি মানে বহিরাজ্য থেকে পাথর, বালি, মাটি বা অন্য বনজ সম্পদ কড়িয়াই নিয়ে অসমে আসা গাড়িগুলোর জন্য প্রযোজ্য চালান। মন্ত্রীর মতে, ব্রাউন টিপির এই সিস্টেম দেখে মুখ্যমন্ত্রীও হতবাক। এমট্রন কোন সংস্থা বলে প্রশ্ন তুলে সব তদন্ত করার ঘোষণা মন্ত্রীর। প্রতিটি টিপি ১৫৪ টাকা করে প্রসেসিং ফি’র নামে এমট্রনে কত টাকা জমা হল তার হিসাবও করবেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর হাতে থাকা খবর অনুযায়ী ব্যক্তিগত রয়েলিটি নিয়ে কাঠ মিল বৈধ করে দিচ্ছেন আধিকারিকরা। এই পর্যালোচনা বৈঠকে বিটিসি, কার্বি আংলং স্বায়ত্ব শাসিত পরিষদ, ডিমা হাসাও স্বায়ত্ব শাসিত পরিষদের প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে পরিষদগুলোর এলাকার বন বিভাগের রাজস্বের তথ্যও চান মন্ত্রী। মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, পরিষদগুলোর এলাকাতেও বাড়তে হবে বন বিভাগের রয়েলিটি। এই বৈঠকেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর আধিকারিকদের দিয়ে দেন মন্ত্রী। টাকা-পয়সা লেনদেন থেকে অবৈধ কারবার পর্যন্ত যে কোনো অভিযোগ থাকলে মেসেজ করে দিতে নির্দেশ। সঙ্গে কেরিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান মন্ত্রী।












