বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: আজ সকালে গুয়াহাটির প্রাণকেন্দ্র সতী রাধিকা পার্ক-এ উৎসবের মেজাজে পালিত হল দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-এর কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। সূর্যোদয়ের সঙ্গে হাজারো মানুষের ভিড়ে যোগের আসন জমে ওঠে। অনুষ্ঠানে মাননীয় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর পাশে দাঁড়িয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা যোগাভ্যাসে অংশ নেন। সুস্থ জীবনযাপন ও নিয়মানুবর্তিতায় তিনিও এক জ্বলন্ত উদাহরণ, নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণা। এবছর যোগ দিবসের মূল ভাবনা নির্ধারিত হয়েছে সুস্থ বৃদ্ধ বয়সের জন্য যোগ। এই ভাবনা মনে করিয়ে দেয়, বয়স বাড়লেও শরীর ও মনকে সতেজ রাখা সম্ভব যদি রোজকার জীবনে যোগচর্চা থাকে। যোগ আমাদের ব্যস্ত জীবনে শান্তি এনে দেয়, শরীরকে জোগায় শক্তি, আর চিন্তায় আনে ইতিবাচকতা। হাজার বছরের পুরনো ভারতীয় সভ্যতার এই অমূল্য সম্পদ আজ আর দেশের গণ্ডিতে নেই। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে যোগ সমাদৃত, যা আমাদের সকলের জন্য গর্বের। ১২ বছরের যাত্রা পেরিয়ে আসা এই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আহ্বানেই যোগ আজ শুধু একটি ব্যায়াম নয়, এক বিশ্বজন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আনন্দের বিষয় হল, আজ আসামের তেইশ হাজার চারশো আটানব্বইটি গ্রামের প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে শুরু করে শহরের সাঁইত্রিশ হাজার তিনশো তিরাশিটি স্থানে একই সময়ে যোগাসন হয়েছে। গ্রামের মাঠ থেকে শহরের পার্ক, সব জায়গা মুখরিত ছিল যোগের ধ্বনিতে। এই মহাযজ্ঞে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বত্রিশ লাখেরও বেশি সদস্য-সহ ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, সব শ্রেণির মানুষ সামিল হন। সকলে মিলে সুস্থ জীবন ও সামাজিক সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বার্তা দিলেন গোটা রাজ্যকে। এই দিনে নতুন প্রজন্মের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আবেদন, মোবাইল-কম্পিউটারের দুনিয়ায় নিজের শরীরকে অবহেলা করবেন না। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন, নিজের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন এবং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে যোগচর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করুন। আসুন, আমরা সকলে মিলে যোগের মাধ্যমে গড়ে তুলি সুস্থ শরীর, শান্ত মন ও শক্তিশালী সমাজ।













