,

হোমস্টের জন্য একক ডিজিটাল মঞ্চের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর, পর্যটনে নতুন দিগন্ত

বিশেষ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: পর্যটন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা রাজ্যজুড়ে হোমস্টের জন্য একটি একক ডিজিটাল মঞ্চ তৈরির প্রস্তাব দেন। একটি জনপ্রিয় সামাজিক মঞ্চে সরাসরি আলোচনায় তিনি বলেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ সাম্প্রতিক সময়ে আসামের উপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এখন প্রকৃতি-নির্ভর ও সম্প্রদায়-চালিত পর্যটনের উপর জোর দেওয়ার…

বিশেষ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: পর্যটন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা রাজ্যজুড়ে হোমস্টের জন্য একটি একক ডিজিটাল মঞ্চ তৈরির প্রস্তাব দেন। একটি জনপ্রিয় সামাজিক মঞ্চে সরাসরি আলোচনায় তিনি বলেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ সাম্প্রতিক সময়ে আসামের উপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এখন প্রকৃতি-নির্ভর ও সম্প্রদায়-চালিত পর্যটনের উপর জোর দেওয়ার সময় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছরগুলিতে আসামে মানসম্পন্ন আবাসনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলেও বিদেশি পর্যটকরা এখন প্রচলিত বিলাসবহুল হোটেলের বদলে স্থানীয় জীবনযাত্রা ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা চাইছেন। পর্যটক সংখ্যা বাড়লে আমাদের আতিথেয়তা ও অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের পর্যটকরা পাঁচতারা হোটেল খোঁজেন না, কারণ সেসব তাদের দেশেই আছে। তারা আসামে আসেন প্রকৃতি, শান্তি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা দেখতে। তিনি হোমস্টে, বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক আবাস, শিবিরস্থল ও প্রকৃতি-ঘেঁষা পর্যটন পরিকাঠামোর উপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, পর্যটকরা যাতে আসামের খাবার, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা উপভোগ করতে পারেন, তেমন আবাসনই গড়ে তুলতে হবে। এই ভাবনার প্রধান অংশ হিসেবে তিনি পর্যটন দফতরকে একটি সুন্দর ও ব্যবহারবান্ধব ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশ দেন। এই একক মঞ্চের মাধ্যমে রাজ্যের যে কোনো প্রান্তের হোমস্টে মালিকরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন এবং পর্যটকরা সহজে খুঁজে নিয়ে বুকিং করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ব্যবস্থা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করবে এবং ছোট উদ্যোক্তা, স্থানীয় পরিবার ও গ্রামীণ পর্যটন পরিচালকদের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়াবে। তিনি রাজ্যের বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও হোমস্টে মালিকদের আসামের গল্প বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে অসমীয়া ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের হোমস্টে, ঐতিহ্য, খাবার, উৎসব ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বহু বছর ধরে সংঘাত ও অস্থিরতার ছবি আসামের পরিচয় ছিল, যা পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করত। আজ সেই ধারণা বদলাচ্ছে। আতিথেয়তা, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য আসামকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ এখন সামনে। পর্যটনকে তিনি বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যটনস্থল পরিচ্ছন্ন রাখা ও মানসম্পন্ন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের উপর জোর দেন। তিনি আরও জানান, বিশ্ব দরবারে আসামকে তুলে ধরতে জুলাইয়ের এক, দুই ও তিন তারিখে রাজ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথি আসছেন। আসামকে বিশ্ব পর্যটন ও বিনিয়োগের মানচিত্রে স্থান দিতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *