বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গণিতভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষায় নজিরবিহীন সাফল্যের জন্য মেধাবী ছাত্র অরিন্দম সী-কে সংবর্ধনা জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। রবিবার ফ্রন্টের প্রধান প্রদীপ দত্তরায়-র নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল শিলচরের বাড়িতে গিয়ে অরিন্দমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেয়। সম্প্রতি ঘোষিত ২০২৬ সালের ভারতীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান-এর প্রবেশিকা পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে অরিন্দম সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। একইসঙ্গে চেন্নাই গণিত প্রতিষ্ঠান-এর গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান স্নাতক কোর্সে শতভাগ বৃত্তি সহ ভর্তির সুযোগ লাভ করেছে সে। অরিন্দমের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। স্মারকে উল্লেখ করা হয়, গণিতে তার অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্ব ও অনন্য সাফল্যের জন্যই এই সম্মাননা। বলা হয়, অরিন্দমের এই অর্জন শুধু বরাক উপত্যকার নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয় এবং তার সাফল্য আগামী প্রজন্মকে গণিত ও বিজ্ঞানচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রধান প্রদীপ দত্তরায় বলেন, দেশের অন্যতম কঠিন দুটি গণিতভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষায় অরিন্দম যে সাফল্য অর্জন করেছে তা শুধু বরাক উপত্যকা নয়, সমগ্র অসমের জন্য গর্বের বিষয়। তবে একইসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন ঐতিহাসিক সাফল্যের পরও সরকারের পক্ষ থেকে অরিন্দমকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি। বরাক উপত্যকার ১৩ জন বিধায়কের মধ্যে দুজন মন্ত্রী রয়েছেন, পাশাপাশি রয়েছেন তিনজন সাংসদ, কিন্তু তাঁদের কেউই এখনও পর্যন্ত অরিন্দমের খোঁজ নেননি বা এই অসাধারণ অর্জনকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রদীপ দত্তরায় আরও বলেন, যে ছাত্র ভারতীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানে সর্বভারতীয় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে গর্বিত করেছে এবং চেন্নাই গণিত প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বৃত্তি সহ ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তাকে সম্মানিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংসদ, বিধায়ক এবং রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানান, অরিন্দমের এই অনন্য কৃতিত্বকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হোক এবং সরকারি স্তরে তাকে সংবর্ধিত করা হোক। এতে শুধু অরিন্দম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও উৎসাহিত হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রেরণা পাবে। এদিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অরিন্দমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বড় সাফল্যের আশা ব্যক্ত করেন। অরিন্দমও সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, পরিবারের সহযোগিতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের আশীর্বাদই তাকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। উল্লেখ্য, কাছাড় জেলার উধারবন্দের বাসিন্দা অরিন্দম সী ইতিমধ্যেই চেন্নাই গণিত প্রতিষ্ঠানে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার এই অসাধারণ সাফল্যকে কেন্দ্র করে বরাক উপত্যকার শিক্ষামহল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।












