যোগাভ্যাসভিত্তিক সুস্থ জীবনযাপনের আহ্বান মন্ত্রী কৌশিক রায়ের
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: জেলা স্বাস্থ্য সমিতির সহযোগিতায় কাছাড় জেলা প্রশাসন রবিবার ঐতিহাসিক খাসপুরস্থিত কাছাড়ি দুর্গে বিপুল উৎসাহ ও জনঅংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ”, যা সকল বয়সের মানুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং আবেগগত ভারসাম্য বৃদ্ধিতে যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, ২০২৬-এর দেশব্যাপী উদযাপনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা মাননীয় অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে “পিএম শ্রী গাঁও-গাঁও যোগ মহা অভিযান” এবং “আমার মাটি-আমার নায়ক” কর্মসূচির সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন। কামরূপ, কাছাড়, শোণিতপুর, যোরহাট, কোকরাঝাড় এবং বঙ্গাইগাঁও-সহ ছয়টি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে গৃহীত এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হলো যোগচর্চার সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা এবং একই সঙ্গে রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, গণবণ্টন ও উপভোক্তা বিষয়ক, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায়, উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (স্বাস্থ্য) মনোজ্যোতি কুটুম, এ.সি.এস., উদারবন্দের চক্র আধিকারিক প্রণবানন্দ দুয়রা, এ.সি.এস., স্বাস্থ্য পরিষেবার যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ সুমনা নাইডিং, বিদ্যালয় পরিদর্শক মিঠুন জাহারি, এ.ই.এস., জেলা ক্রীড়া আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, পৌর ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, যোগানুরাগী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন।সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় সমসাময়িক জীবনে যোগের রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং একে মানবজাতির প্রতি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যোগ কেবলমাত্র শারীরিক ব্যায়ামের একটি পদ্ধতি নয়, বরং এটি এমন একটি সামগ্রিক অনুশাসন যা শরীর, মন এবং আত্মার বিকাশ ঘটায়। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়ের তাৎপর্য উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের সুস্থ ও অধিক সক্রিয় জীবনযাপনের স্বার্থে, বিশেষ করে জীবনধারাজনিত বিভিন্ন রোগের ক্রমবর্ধমান প্রেক্ষাপটে, দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যোগকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এত সুন্দর ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন পরিবেশে অনুষ্ঠানটির সফল আয়োজনের জন্য কাছাড় জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ প্রশংসার দাবিদার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি নবপ্রজন্মকে কেবল সুস্বাস্থ্য রক্ষার উপায় হিসেবেই নয়, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম হিসেবেও যোগকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষিত যোগ প্রশিক্ষক চন্দন দেবের তত্ত্বাবধানে একটি গণযোগাভ্যাস সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে বিভিন্ন যোগাসন ও যোগচর্চা সম্পাদন করেন। যোগাভ্যাস সেশনের পর জেলা-স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর বিজয়ীদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও উৎকর্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ শংসাপত্র প্রদান করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য বিভাগের সঞ্জীব দাস।
অসমের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকা জোন, শিলচর আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।












