,

গুয়াহাটির ফুটপাথের খুচরো দোকান এবার শুধু খিলঞ্জিয়ার হাতে, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে জরিপ করে বহিরাগতদের দোকানে তালা

খিলঞ্জিয়া সুরক্ষায় জরিপ ও পরিচয়পত্র নথিভুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। গুয়াহাটি : গুয়াহাটি মহানগরীর ফুটপাথের খুচরো দোকানগুলোতে খিলঞ্জিয়ার প্রাধান্য নিশ্চিত করতে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে জরিপের ভিত্তিতে অচেনা ও বহিরাগত লোকের হাতে থাকা খুচরো দোকানগুলোতে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করবে অসম সরকার। গত ১৩ জুন রাজ্যিক ভারতীয় জনতা দলের মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী…

খিলঞ্জিয়া সুরক্ষায় জরিপ ও পরিচয়পত্র নথিভুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। গুয়াহাটি : গুয়াহাটি মহানগরীর ফুটপাথের খুচরো দোকানগুলোতে খিলঞ্জিয়ার প্রাধান্য নিশ্চিত করতে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে জরিপের ভিত্তিতে অচেনা ও বহিরাগত লোকের হাতে থাকা খুচরো দোকানগুলোতে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করবে অসম সরকার। গত ১৩ জুন রাজ্যিক ভারতীয় জনতা দলের মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যম সম্মেলনে এই কথা জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। আজ ভারতীয় জনতা দলের মুখ্য কার্যালয়ে এক সংবাদমেল করে দলের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রজেন মহন্ত নবনিযুক্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। উল্লেখযোগ্য যে গুয়াহাটিতে প্রায় ১ লাখের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এই সকল মানুষের ৮০ শতাংশের বেশি অচেনা অথবা বহিরাগত। এই অচেনা ও বহিরাগত লোকেরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ব্যবসা করে অথচ সরকারকে এক টাকাও কর দেয় না। গুয়াহাটি মহানগরীর বেশিরভাগ বাসিন্দা খিলঞ্জিয়া হওয়ার বিপরীতে ব্যবসা-বাণিজ্যগুলো ক্রমে অচেনা ও বহিরাগত লোকের হাতে চলে যাচ্ছে। কোনো নিয়ম না মেনে এই অচেনা ও বহিরাগত লোকেরা যেখানে সেখানে ফুটপাথ দখল করে গোটা গুয়াহাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ব্যবহৃত জিনিস নর্দমা বন্ধ করে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করছে। যেখানে সেখানে বসানো এই দোকানগুলো ব্যাপক যানজটও তৈরি করে। তাই এই লোকদের তালা লাগিয়ে একটি সুবিন্যস্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেবল খিলঞ্জিয়া লোকেরাই গুয়াহাটিতে ব্যবসা করার পরিবেশ তৈরি করতে জরিপের ব্যবস্থা করা হবে বলে মুখপাত্র জানান। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা ফুটপাথের ব্যবসাগুলোকে সংগঠিত করে নতুন তৈরি ওপরসেতুগুলোর পাশাপাশি প্রশাসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া অন্যান্য জায়গায় কেবল খিলঞ্জিয়াদের ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে গত ১৩ জুন অসম সরকারের তৃতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে লোকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম নথিভুক্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অসম সরকারের এই পদক্ষেপকেও রাজ্যিক ভারতীয় জনতা দল স্বাগত জানায়। অসমের সুরক্ষা, খিলঞ্জিয়ার অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার ক্ষেত্রে অসম সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ বলে মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অসমে প্রতিদিন আসা পূর্ববঙ্গের ও অন্য রাজ্যের লোকেরা জাতীয় পরিচয়পত্র নথিভুক্তির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করার পথ বন্ধ হবে। অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে অসমের খিলঞ্জিয়া মানুষই সুবিধা পাবে। খিলঞ্জিয়া মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ভারতীয় জনতা দলের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার কোনো আপস করবে না বলেও মুখপাত্র জানান। আজকের সংবাদমেলে ভারতীয় জনতা দলের আরও দুজন মুখপাত্র বনেন্দ্র কুমার মুসাহারি ও প্রাঞ্জল কলিতাও উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *