,

আগামী বছর উত্তর-পূর্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন তুলে নেওয়া হবে: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি। ১১জুন: আগামী বছর উত্তর-পূর্বের এক বা দুটি রাজ্য বাদ দিয়ে বাকি সব রাজ্য থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, আইনের আওতা কমে আসা মানেই এলাকায় শান্তি ফিরেছে। একই দিনে অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের…

নয়াদিল্লি। ১১জুন: আগামী বছর উত্তর-পূর্বের এক বা দুটি রাজ্য বাদ দিয়ে বাকি সব রাজ্য থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, আইনের আওতা কমে আসা মানেই এলাকায় শান্তি ফিরেছে।

একই দিনে অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পথ খুলে দিল কেন্দ্র, অসম ও নাগাল্যান্ডের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি। শাহ এই চুক্তিকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” আখ্যা দিয়েছেন।

এক-দুই রাজ্য বাদে সবখান থেকে আইন উঠবে
নয়াদিল্লিতে অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস তোলার চুক্তি সই অনুষ্ঠানের পর শাহ বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী, এক বা দুটি রাজ্য বাদ দিয়ে আগামী বছর গোটা উত্তর-পূর্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন তুলে নেব।”

কেন্দ্রের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। নাগাল্যান্ডের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিয়ো ও অসমের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সই করেন।

তিন দশক পর খুলল তেলের দরজা
অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের বিতর্কিত অংশে সীমা নিয়ে মতভেদের কারণে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। চুক্তির ফলে এখন সেখানে অনুসন্ধান শুরু হবে।

শাহ জানান, এলাকায় শুধু তেল-গ্যাস নয়, বিপুল খনিজ সম্পদ আছে। আইন-শৃঙ্খলার সমস্যার কারণে এতদিন তা ছোঁয়া যায়নি। এখন দিনে ১০০০-১৫০০ ব্যারেল তেল তোলার ক্ষমতা ১০ গুণ বাড়বে। একটি ক্ষেত্র থেকেই ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তেল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। নাগাল্যান্ড জুড়ে তেল তুলতে পারলে বিদেশি তেলের উপর নির্ভরতা কমবে।

উন্নত উত্তর-পূর্বের শেষ বাধা দূর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কথায়, এই চুক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নত উত্তর-পূর্ব গড়ার স্বপ্নের শেষ বাধা সরিয়ে দিল। অসম ও নাগাল্যান্ড দুই রাজ্যের উন্নয়ন এতদিন চুক্তি না হওয়ায় আটকে ছিল। আজ যে পথ খুলল, তা দুই রাজ্যের উন্নয়নের দরজা খুলে দেবে। শাহ একে “সহযোগিতার যুক্তরাষ্ট্রবাদের সেরা উদাহরণ” বলেছেন।

সহিংসতা ৮০ শতাংশ কমেছে
শাহ জানান, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উত্তর-পূর্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনিই সবচেয়ে বেশি বার এই অঞ্চলে গেছেন। ২০১৯ সালের পর বিভিন্ন গোষ্ঠী ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ১২টি শান্তি চুক্তি হয়েছে। তাতে অঞ্চলে সহিংসতার ঘটনা ৮০ শতাংশ কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *